শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নকল ওষুধ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:২০ এএম

ঝকঝকে প্যাকেট ও নামিদামি কোম্পানির নাম দেখে বোঝার উপায় নেই যে এসব ওষুধ নকল! কৌশলে বড় বড় কোম্পানির নামের সিল মেরে নকল ওষুধ বাজারে ছাড়ছে প্রতারকচক্র। গত শনিবার এই চক্রের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন। গতকাল রবিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের সদস্যরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে যাত্রাবাড়ীর জনপদ মোড় এলাকার আবদুস সাত্তার নামে এক ব্যক্তি বাড়ির নিচতলায় নকল ওষুধ কারখানার সন্ধান পায়। সেখান থেকে নকল ওষুধ তৈরির সময় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো আবদুস সোবহান (৩৫), নাইমুর রহমান ওরফে তুষার (১৭), রিয়াজুল ইসলাম ওরফে মৃদুল (১৯) নার্গিস বেগম (৩৪) ও ওয়াহিদ (৩০)।

এ সময় নকল ওষুধ বানানোর মেশিন, প্রিন্টার, স্ক্রিন মেশিন, ২৫টি রঙের কৌটা, ২০টি ওষুধ তৈরির তারিখ ও মূল্য এবং ব্যাচ লেখার সিল, ৩০০ বোতল জেসন কোম্পানির সাদা পানি, তিনটি ড্রামে ৮৪ হাজার সেক্স পাওয়ার ক্যাপসুল, ৬৫টি ইনসুলিনসহ বিভিন্ন কোম্পানির নামে তৈরি করা ওষুধ জব্দ করা হয়।

আবদুল বাতেন বলেন, ‘দেশে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংগঠিত হয়। অপরাধীরা নানা কৌশলে মানুষকে ঠকায়। কিন্তু প্রাণরক্ষাকারী ওষুধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রতারণা করা মানুষ হত্যার চেয়েও জঘন্য অপরাধ।’ তিনি বলেন, ‘চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিখ্যাত ওষুধ কোম্পানি রেনেটার রোলাক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ইনসুলিন ও প্রিমিয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের অ্যালার্ট বড়িসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামে নকল ওষুধ তৈরি এবং বাজারজাত করছিল। চক্রটি বিভিন্ন পর্যায়ে বিভক্ত হয়ে কাজ করছে। কেউ কেউ কয়েকটি ফার্মেসিতে এসব ওষুধ নামমাত্র মূল্যে রেখে বিক্রি করে মুনাফা বণ্টন করে নেয়। চক্রের সদস্য আবদুস সোবহান একটি ল্যাবরেটরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। সেখানকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এসব নকল ওষুধ তৈরি করছে।’ যুগ্ম কমিশনার আরও বলেন, ‘চক্রের বাকি সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। সেই সঙ্গে এসব নকল ওষুধ যেসব ফার্মেসিতে আছে সেখান থেকে অপসারণে অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত