দেশের বিভিন্ন এলাকায় গতকাল রবিবার সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে পাঁচ জন, গাজীপুরে তিন জন, ঢাকার ধামরাইয়ে একজন ও মাদারীপুরে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে খবর এসেছে। দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত
চট্টগ্রাম : পটিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাস চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের ভাইয়ার দিঘি এলাকায় একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসকে পাশ কাটাতে গিয়ে ধাক্কা দিলে সেটি সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর একজনের মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে নিহত তিন জনের মধ্যে দুজনের নাম আনোয়ার হোসেন ও শাহজাহান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মী রবিউল হোসেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, পটিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ১১ জনের মধ্যে মাইক্রোবাসের চালক সাকিবকে (২২) হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। তিনি সাতকানিয়ার নতুন হাট এলাকার ইসহাক মিয়ার ছেলে।
সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল্লা জানান, রবিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বড় কুমিরার পুরাতন রোড (মাজারগেট) এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে চট্টগ্রামমুখী সৌদিয়া পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেওয়ায় ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় এলাকাবাসী।
তিনি বলেন, নিহত আনোয়ার হোসেন (৪৫) বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুববাগ এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে। স্বজনেরা ঘটনাস্থল থেকেই তার লাশ নিয়ে গেছে।
গাজীপুর
কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন মজুমদার জানান, রবিবার বেলা ১১টার দিকে বরইবাড়ি কলেজের পাশে সফিপুর-বরইবাড়ি সড়কে ফুলবাড়িয়াগামী একটি মাটিবোঝাই ট্রাক এক শিশুকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত মেরাজ (৪) বরইবাড়ি এলাকার জিতু খানের ছেলে।
তিনি বলেন, অটোরিকশা থেকে মেরাজকে নামিয়ে দিয়ে তার মা অটোচালককে ভাড়া দিচ্ছিল। মেরাজ রাস্তা পার হতে গেলে ট্রাকটি তাকে চাপা দিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় ট্রাক ও তার চালককে আটক করা হয়।
গাজীপুরের কালীগঞ্জের নাওজোর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি অহিদুজ্জামান জানান, গত শনিবার মধ্য রাতে ঢাকা-বাইপাস সড়কের উলুখোলা নাওটানা এলাকায় গাজীপুরগামী ট্রাকের সঙ্গে একটি কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এরা হলেন-ট্রাকচালক জুয়েল (৩৫) ও তার সহকারী রাসেল (৩২)। তারা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। তারা গোপালগঞ্জ সদরের বাবুখালী এলাকার বাসিন্দা।
ঢাকা
ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ধামরাইয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের শ্রীরামপুর এলাকায় একটি মোটরসাইকেলকে দ্রুতগামী একটি বাস চাপা দিয়ে গেলে ঘটনাস্থলেই আরোহীর মৃত্যু হয়। মোটরসাইকেলের চালক গুরুতর আহত হন।
নিহত জমিলা আক্তার (২৪) পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানা এলাকার নূর মোহাম্মদের মেয়ে। তিনি ধামরাইয়ের কালামপুর মহল্লার জাহাঙ্গীর আলমের বাসায় ভাড়া থেকে পাশের বালিথা এলাকার একে এইচ ইকো অ্যাপারেলস কারখানার সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
শরীয়তপুর
মাদারীপুর সদর থানার ওসি কামরুল হাসান, রবিবার সকালে সদর উপজেলার মস্তফাপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সামনের সড়কে পিক-আপ গাড়ি এক মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে আরোহী ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। নিহত গুরুদেব সরকার (৪৫) রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম এলাকার রাজেশ্বর সরকারের ছেলে।
