প্রতিনিয়ত বাণিজ্য ঘাটতির ফলে দেশের অর্থনীতিতে এক ধরনের চাপ তৈরী হলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আমদানির তুলনায় রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে দেশের বানিজ্য ঘাটতি কমে এমেছে।
চলতি ২০১৮০-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে ১১ দশমিক ২১ শতাংশ। একই সঙ্গে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের সমতার ঘাটতিও কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
রপ্তানিতে বড় অঙ্কের প্রবৃদ্ধি ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাড়ায় দেশের অর্থনীতিতে চাপ কিছুটা কমেছে। নতুন বছরের প্রথম মাসে ১৫৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। মাসের হিসেবে এটাতে রেকর্ড তৈরি হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথমার্ধের তুলনায় চলতি প্রথমার্ধে আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। তবে এ সময়ে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। একই সময়ে আমদানি প্রবৃদ্ধি হয় ৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ২ হাজার ১৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার বেশি। চলতি প্রথমার্ধে রপ্তানি বাড়াতে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা ছিল তৈরি পোশাক খাতের। এক বছরে এ খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
অন্যদিকে এ সময়ে আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৭৮২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আগের বছরে একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ২ হাজার ৬৩১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। আমদানিজনিত চাপে দেশে ডলারের চাহিদা বেড়েছে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা কমলেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বেড়েছে। একই সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সও বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি ছিল ৮৬২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭৬৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে গত অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার কমেছে। প্রসঙ্গত, রপ্তানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় যেটুকু বেশি, তার পার্থক্যই বাণিজ্য ঘাটতি।
