রোহিঙ্গা নির্যাতনের করুণ কাহিনী শুনলেন জোলি

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩৬ এএম

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত ও হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখে নির্যাতনের বর্ণনা শুনেছেন। গতকাল সোমবার বেলা ২টার দিকে তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার চাকমারকুলে ২১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন বলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি নির্যাতিত ও ধর্ষণের শিকার রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মুখ থেকে নির্যাতনের কাহিনী শোনেন। মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার কুতুপালং এক্সটেনশন ৪ নম্বর ক্যাম্প পরিদর্শন করবেন তিনি। সেখান থেকে ফিরে কক্সবাজার শহরে ফিরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা থেকে একটি বেসরকারি সংস্থার উড়োজাহাজে করে কক্সবাজার বিমানবন্দরে আসেন জোলি। সেখান থেকে ইনানীর একটি হোটেলে ওঠেন তিনি। সেখান থেকে বেলা ২টার দিকে টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরে যান।

চাকমারকুল ২১ নম্বর ক্যাম্পের ডি-ব্লকের বাসিন্দা রোহিঙ্গা নেতা রশিদ উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে জানান, জোলি তাদের ব্লকে ৩০ জন রোহিঙ্গা নারীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ধর্ষণের শিকার নারীদের বুকে জড়িয়ে ধরেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা শিশুদের সঙ্গেও কিছুক্ষণ সময় কাটান।

ওই ক্যাম্পের জি-ব্লকের জহির আহমদ জানান, জোলি প্রথমে ক্যাম্পে এসে ব্র্যাকের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ব্র্যাকের কর্মকর্তা, রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতা ও বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। পরে নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের ছবি তোলেন। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করে হোটেলে চলে যান।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪ পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ত্রাণকার্যে নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। পরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও এনজিও পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। তার এই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এতে প্রাণভয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার শিবিরগুলোতে এখন দিন কাটছে তাদের। এসব রোহিঙ্গা নারীর নির্যাতনের শিকার হওয়ার বর্ণনা শুনে ঢাকায় আসার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

সে সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, জোলি যৌন নিপীড়নের শিকার রোহিঙ্গা নারীদের দেখতে বাংলাদেশে আসার পরিকল্পনা করছেন। কিন্তু সে সময়ে দেশে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন কারণে এর আগে অন্তত চারবার অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বাংলাদেশ সফর বাতিল করা হয়।

গত বছরের ২১ মে জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন বলিউড অভিনেত্রী, সাবেক বিশ্বসুন্দরী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তিনি টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর মনখালী ব্রিজের পাশে অস্থায়ী রোহিঙ্গা শিবিরের শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত