সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঘটা করে কর্মসূচি দিয়ে পিছু হটছে বিএনপি

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩৬ এএম

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর তিন দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেও পিছু হটছে বিএনপি। নির্বাচনের পর সংবাদ সম্মেলন করে ধানের শীষের প্রার্থী হওয়া নেতাদের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল দলটি। কিন্তু সে ঘোষণা থেকে সরে এসেছে বিএনপি। সর্বশেষ দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিন আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে সমাবেশ করতে চেয়েছিল তারা। শেষ পর্যন্ত সে কর্মসূচি থেকেও সরে এসেছে দলটি। অবশ্য কর্মসূচি ঘোষণার পর একাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন গত ৩০ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে নবম সংসদের বিরোধী দল বিএনপি।

কর্মসূচি ঘোষণা করে পিছু হটার কারণ জানতে গতকাল সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি। সবার একই কথা, কোনো কিছুই জানেন না।

তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পরে আমরা সবাই হতভম্ব। নির্বাচনে কীভাবে ভোট ডাকাতি হয়ে গেল তা ভাবতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ভুলভ্রান্তি হচ্ছে। তাই কর্মসূচি ঘোষণা করেও পিছু হটতে হচ্ছে। 

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৮ ফেব্রুয়ারির সমাবেশ থেকে সরে আসার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দেশ রূপান্তরকে বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশেই বাংলা একাডেমিতে বইমেলা চলছে। এ কারণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি। তাই সমাবেশের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। পরিবর্তে ৮ ফেব্রুয়ারি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আলোচনা সভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৯ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হবে।

নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলার অবস্থান থেকে সরে আসার কারণ জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, নির্বাচনের পরপরই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বৈঠকে ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু পরে আইন বিশেষজ্ঞসহ বিএনপির কয়েকজন নেতা এর বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, আদালত এখন পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে। সেখানে গেলে সরকার মামলা খারিজ করে দিয়ে সরকারকে বৈধ ঘোষণা করবে। এমনটা হলে বিএনপি বেকায়দায় পড়বে। তাই মামলা করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তারা। তাহলে কেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল জানতে চাইলে আলাল দাবি করেন, তিনি এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাই বলতে পারবেন না।

এ সম্পর্কে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত বলেন, ফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রথমে নেওয়া হয়েছিল। পরে আইনজীবীদের পরামর্শে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তারা। তবে তিনিসহ কয়েকজন প্রতীকী মামলা করেছেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি তিনি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত