রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সাংবাদিকদের জোলি

রোহিঙ্গাদের ফেরার পরিবেশ তৈরি হয়নি

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:১১ এএম

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বসহ সব অধিকার দিয়ে মিয়ানমারের ফিরিয়ে নেওয়া উচিত মন্তব্য করে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের বিশেষ দূত হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেছেন, রাখাইনে এখনো রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি। কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় দুদিনের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কুতুপালং ৫ নম্বর ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে রোহিঙ্গারা অন্যতম। বিশ্ব সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তাদের নাগরিকত্বসহ সব অধিকার দিয়ে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। আমি দুদিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন জায়গা ঘুরেছি। রোহিঙ্গাদের মুখে মিয়ানমার সরকারের বর্বর নির্যাতনের বর্ণনা শুনেছি।

জোলি সাংবাদিকদের বলেন, সব শরণার্থীর মতো রোহিঙ্গারা নিজভূমে ফিরতে চায় এবং অবশ্যই সে অধিকার তাদের রয়েছে। কিন্তু সেটা হতে হবে স্বেচ্ছায় এবং সসম্মানে। ফিরে যাওয়ার বিষয়ে গতকাল এক রোহিঙ্গা নারীকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘অধিকার ছাড়া গুলি করে মেরে ফেললেও তিনি মিয়ানমারে ফিরে যাবেন না। কাজেই বোঝা যায়, রাখাইনে এখনো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি।’

তিনি বলেন, এসব অধিকার নিশ্চিত করা ও রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা নিতান্তই মিয়ানমারের সরকার ও কর্র্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়। আমি আশা করি, তারা এসব বিষয় এড়িয়ে যাবে না, যেমন আমরাও রোহিঙ্গাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেব না। রাখাইনে সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির চক্র বন্ধ করে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অবস্থার উন্নতি ঘটাতে আন্তরিকতা দেখাতে আমি মিয়ানমার সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দিকে ইঙ্গিত করে জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী বলেন, আমরা সবাই এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছি। এত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে এবং তাদের সহায়তা দিয়ে বাংলাদেশ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এজন্য আমি বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

গতকাল সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিদর্শনে যান জোলি। সাড়ে ১০টার দিকে কুতুপালং এক্সটেনশন-৪ ক্যাম্পে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে তাদের সঙ্গে করমর্দন করেন। পরে উখিয়ার কুতুপালং ৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ঘুরে নির্যাতিত নারীদের সঙ্গে কথা বলেন। দুপুরে কুতুপালং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হোপ ফাউন্ডেশন পরিচালিত হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসাধীন রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

জোলির সঙ্গে কথা বলেছেন উখিয়ার কুতুপালং ৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারী রমিজা খাতুন। তিনি বলেন, জোলি তাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন। নির্যাতনের কথা শুনে তিনি হতবাক ও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, জোলি দুদিনের জন্য ঢাকা থেকে কক্সবাজারে এসেছেন। গত সোমবার টেকনাফের চাকমারকুল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। আজ সকালে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন তিনি।

এর আগে গত সোমবার দুদিনের জন্য একটি বেসরকারি বিমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পৌঁছান জোলি। এরপর সরাসরি কক্সবাজারের ইনানীতে একটি হোটেলে ওঠেন। পরে দুপুর ২টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চাকমারকুল ২১নং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। সেখানে নির্যাতিত ও ধর্ষণের শিকার রোহিঙ্গা নারীদের কাছে নির্যাতনের কাহিনী শোনেন। আজ বুধবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার দেখা করার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত