রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সব দাবি মেনেছি, এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত হোন

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:১২ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সন্ত্রাস-জঙ্গি দমনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসনীয়। এখন মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আপনাদের বেতনভাতা বাড়িয়েছি। যা যা দাবি করেছেন সবই মেনে নিয়েছি। এখন মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, অনেক মামলা সময়মতো সম্পন্ন হয় না। আপনারা যারা মামলাগুলো পরিচালনা করেন, সেখানে কিন্তু ঘাটতি আছে। সেই মামলার ওপর নজরদারি করে যেন সঠিকভাবে দ্রুত পরিচালিত হয়, সে লক্ষ্যে আপনাদের বিশেষ একটা উদ্যোগ নেওয়া উচিত এবং এ ক্ষেত্রে আপনাদের একটা টিমই থাকা উচিত। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, এফআইআর করে ফেলে রাখা হয়েছে। সেগুলোকে চার্জশিট দেওয়া, অভিযোগ করা, সাক্ষী নিয়ে আসার কাজগুলো অনেক সময় ঠিকমতো করা হয় না। আর কোর্টে গেলেও সেটা বছরের পর বছর আটকে থাকে। সেখানে আবার আইনজীবী লাগে, অথবা সরকারপক্ষ থেকেও লোক লাগে। এই বিষয়গুলোর জন্য আমার মনে হয় একটা আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কীভাবে মামলাগুলো যথাযথভাবে চলবে এবং সময়মতো মামলাগুলো সম্পন্ন হবে, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস বাংলাদেশের একার সমস্যা না। এ বিষয়ে আমাদের একটা স্ট্র্যাটেজি থাকতে হবে। কীভাবে কোথায় কখন কোন জায়গা থেকে আমাদের ওপর হামলা করতে পারে, এরকম সম্ভাবনা আছে কি না? গোয়েন্দা নজরদারিও যেমন বাড়াতে হবে, পাশাপাশি এ ধরনের একটা স্ট্র্যাটেজি নিয়েই সবসময় আমাদের আরও ট্রেনিং এবং প্রস্তুত থাকা দরকার।

তিনি বলেন, সাইবার নিয়ন্ত্রণ ক্রাইমের আইনও করে দিয়েছি। যেটা নিয়ে বেশ হইচই, অনেকে এর বিরুদ্ধে কথা বলে, কিন্তু বাস্তবতা হলো যে, এই আইনটা একান্তভাবে করা হয়েছে মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। যারা নিরীহ সাধারণ জনগোষ্ঠী, তাদের যে মানবাধিকার রয়েছে, সেটা সংরক্ষিত করার জন্যই এই আইনটা আমরা করেছি। এটা মানুষের অধিকার রক্ষা, মানুষের জীবনমান বাঁচানোর জন্যই করা। তাই পুলিশ বাহিনীকে এসব তদন্ত করে সঙ্গে সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া সারা দেশে বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রত্যেকটি এলাকায় বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট করে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক দ্রুত অ্যাকশনে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জনসহ এর ওপর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ বেশি প্রয়োজন বলেও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

২০০৮ সালের নির্বাচনে সরকার গঠন থেকে সরকারের ধারাবাহিকতার দিকটি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার গঠন করা মানে হলো আমার কাছে দেশের সেবা করার একটা সুযোগ পাওয়া। সরকারে এসে নিজের ভাগ্য গড়া নয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া পুলিশের বর্তমান জনবল প্রায় সোয়া দুই লাখ থেকে আরও অন্তত ৫০ হাজার বাড়ানোর অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম, আমরা করতে পেরেছি। কিন্তু এটা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। আপনাদের একটা স্ট্র্যাটেজি থাকতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।

বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস, মিশনগুলোতে পুলিশের পদায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানানো হয়। বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, জননিরাপত্তা সচিব মোস্তফা কামালউদ্দিন বক্তব্য দেন। এছাড়া পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত