মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সুইফটের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমঝোতা চুক্তি

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:০২ এএম

আন্তঃব্যাংক লেনদেনের বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান সুইফটের সঙ্গে রিজার্ভ চুরির পর অবকাঠামোগত পুনর্গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সুইফট কর্র্তৃপক্ষের বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়। বিবৃতিতে সুইফট (সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিনান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন) জানায়, ‘সাইবার প্রতরণার ঘটনার পর সুইফট, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক (নিউ ইয়র্ক ফেড) এবং বাংলাদেশ ব্যাংক একত্রে কাজ করছে। চুরি যাওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার এবং আইনের

আওতায় অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে সমন্বিতভাবে প্রচেষ্টা চলছে।

সুইফট আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যৎ সাইবার হামলা থেকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাকে সুরক্ষা দেওয়ার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় সমর্থন জুগিয়ে যাবে তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে দায়ের করা মামলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংককে কোনো সহযোগিতা দেওয়া হবে কি না, সে ব্যাপারে কিছু জানায়নি সুইফট। গত শুক্রবার বাংলাদেশ ব্যাংককে ম্যানিলাভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনায় ‘প্রযুক্তিগত সহায়তা’ দেওয়ার আশ্বাস দেয়। ওই আশ্বাসের পরেই সুইফট এই বিবৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী আজমালুল হোসেইন কিউসি আরসিবিসির বিরুদ্ধে করা মামলায় সুইফটের ভূমিকা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

চুরি যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়ের করা মামলা পরিচালনায় সুইফট সহযোগিতা করবে কি না, সে ব্যাপারে জানা যায়নি। ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্ক ফেডে থাকা বাংলাদেশের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং লেনদেনের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সুইফটে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই অর্থ ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কার দুটি ব্যাংকে সরানো হয়েছিল। এই অর্থের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া ২ কোটি ডলার আটকানো গেলেও ফিলিপাইনে চলে যায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। এর মধ্যে এখনো ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার ফেরত আসেনি। এই অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য এ বছরের ১ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য দেশটিতে দুটি ল’ ফার্মকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

২০১৬ সালে হ্যাকাররা চুরির অর্থ ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখার চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে। সেখান থেকে ওই অর্থ ফিলিপাইনের মুদ্রা পেসোতে রূপান্তরের পর দুটি ক্যাসিনোতে পাঠানো হয়। রিজার্ভ চুরির এই ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় গত ১০ জানুয়ারি আরসিবিসির সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতোকে কারাদণ্ড দেয় ফিলিপাইনের আদালত।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত