রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

শ্রমিকের টাকায় হাসপাতাল চার বছরেও চালু হয়নি

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৩৮ এএম

পরিবহন শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য তাদের চাঁদায় রাজশাহীতে একটি হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ মাঝপথে থমকে আছে। উদ্বোধনের চার বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। হাসপাতালের জন্য কেনা যন্ত্রপাতি পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এতদিনেও এটি চালু করতে না পারার জন্য শ্রমিক নেতারা পরস্পরকে দুষছেন। অন্যদিকে হাসপাতালের জন্য চাঁদা দেওয়া শ্রমিকরা নেতাদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন।

পরিবহন শ্রমিকরা দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার শিকার হলে যাতে বিনা খরচে ভালো চিকিৎসা পান সেই লক্ষ্যে এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। নগরীর নওদাপাড়া বাস টার্মিনালে শ্রমিক ভবনের দোতলায় ‘রাজশাহী শ্রমিক হাসপাতাল’-এর জায়গা নির্ধারণ করা হয়। ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি (বর্তমানে মেয়র) এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, ‘তখন হাসপাতাল নির্মাণের কথা বলে বিভিন্ন রুটের বাস থেকে প্রতিদিন ৪০-৫০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। আঞ্চলিক ইউনিয়নের নামে চারটি পয়েন্ট থেকে পাঁচ হাজার এবং ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন থেকেও চার হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। এছাড়া বাস টার্মিনালে মেলার আয়োজন করা হয়।’ তার অভিযোগ, আধুনিক হাসপাতালের নামে টাকা তুলে কিছু নেতা বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। শ্রমিকদের প্রত্যাশিত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়নি।

জানতে চাইলে ‘টাকা কিছুটা এদিক ওদিক হয়েছে’ স্বীকার করে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কামাল হোসেন রবি বলেন, ‘এসব বিষয় সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন দেখভাল করতেন। হিসাবনিকাশও তিনিই বলতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতাল চালু করার জন্য আপাতত ৩০-৩৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। এই টাকা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।’

টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ অস্বীকার করে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমি কমিটিতে থাকাকালেই হাসপাতালের কাজ শেষ করেছি। এখন শুধু চালু করা।’ শ্রমিকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা বর্তমান আহ্বায়কের কাছে জমা আছে বলে দাবি করেন তিনি। হাসপাতাল নির্মাণের জন্য মোট কত টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে দুই নেতার কেউ তা জানাতে পারেননি।

১৫ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে জরুরি বিভাগ, অর্থোপেডিক সার্জারি ও সাধারণ ওয়ার্ড রাখার পরিকল্পনা ছিল। হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ইসিজি ও এক্সরে মেশিন, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার কিছু যন্ত্রাংশ কেনা হয়েছে। সেগুলো এখন অযতেœ নষ্ট হওয়ার পথে। সারিবদ্ধভাবে রাখা বেডে জমেছে ধুলোবালির স্তর। হাসপাতাল চালু না হওয়ায় এখন সেখানে শ্রমিকরা রান্নাবান্নার কাজ করেন। জায়গাটি ব্যবহার হচ্ছে আড্ডা, রাতযাপনেও।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত