মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সহকর্মীদের শুভেচ্ছায় সিক্ত সুবর্ণা

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:২৪ এএম

এবারের একুশে পদকের জন্য নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন সুবর্ণা মুস্তাফা। শিল্পকলা ও অভিনয়ে অবদানের জন্য তিনি এ স্বীকৃতি পাচ্ছেন। বুধবার বিকেলের এ ঘোষণা আসার পর থেকে শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন এ জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তাকে ফেসবুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন টিভি মিডিয়ার অনেকে।

নাট্যকার গোলাম সোহরাব দোদুল লেখেন, প্রকৃত শিল্পীরা সম্মানিত হলেই একটি জাতি সম্মানিত হয়। বিশেষ করে অভিনন্দন শ্রদ্ধেয় সুবর্ণা মুস্তাফা এবং লাকী ইনামকে। মহান একুশে পদকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন থাকল।

অভিনেত্রী তানভীন সুইটি লেখেন, অভিনন্দন সুবর্ণা আপা। আপনার অভিনয় দেখতাম আর মুগ্ধ হতাম, তখন মনে হতো আপনার মতো যদি অভিনয় করতে পারতাম... কী দুর্দান্ত অভিনয়। এই মুহূর্তে মনে পড়ছে ‘আবার এ বুঝি সন্ধ্যা’ গানটার সাথে আপনার পারফরমেন্স পুরা মাথা নষ্ট। বাবার কলম কোথায়, কোথাও কেউ নেই, আজ রবিবার, অয়োময় আরও অনেক বিখ্যাত নাটক দর্শকের মনে গেঁথে আছে। আপনার জন্য অনেক ভালোবাসা রইল। আপনার একুশে পদক প্রাপ্তিতে আমি আনন্দিত ও গর্বিত।

অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম জানান, সুবর্ণাকে সব সময় তিনি কিংবদন্তি বলেন। আবারও তাকে গর্বিত করলেন।

নির্মাতা কৌশিক শংকর দাশ বলেন, যখন থেকে টিভি নাটক দেখি, তখন থেকেই তাকে চিনি। সেই ৭৬ সালে বোধ হয় তাকে প্রথম টিভিতে দেখেছিলাম ‘ইডিয়ট’ নাটকে। তারপর ৭৮ সালে বিটিভিতে নতুন কুঁড়িতে অংশ নিতে গিয়ে প্রথম সামনাসামনি দেখা। ছড়া গান পর্বে তিনি উপস্থাপক। কোন কথা বলতে পারিনি। তখন আমরা পরিচয় ছাড়া কথা বলতেই ভয় পেতাম। এরপর টিভিতে যত তার নাটক দেখেছি তত মুগ্ধ হয়েছি। টিভি গাইড বেরোলেই খুঁজে দেখতাম তার অভিনীত নাটক কবে দেখাবে। সোজা কথায় আমাদের হার্টথ্রব ছিলেন তিনি। আসলে তাকে আমরা আমাদের মনে এমন একটা আসনে বসিয়েছিলাম যে কখনো তার সাথে দেখা হবে বা কথা হবে, ভুলেও ভাবিনি।

দীর্ঘ স্ট্যাটাসের শেষে লেখেন, সুবর্ণা আপা, একুশে পদক প্রাপ্তিতে আপনাকে অনেক অনেক অভিনন্দন।

অভিনেত্রী তারিন জাহান লেখেন, যাদের অভিনয় দেখে আমার বেড়ে ওঠা। যার স্নেহ, ভালোবাসা, শাসন, উৎসাহ, পথ নির্দেশনা, ছায়া পেয়ে এই ইন্ডাস্ট্রিতে এতগুলো বছর কাজ করেছি, যার কাছ থেকে প্রতি মুহূর্তে শুধু শেখার আছে, জানার আছে, যিনি নিজেই একটি ইনস্টিটিউট, যিনি এ দেশের গর্ব, আমাদের গর্ব.. যোগ্য এই মানুষটির একুশে পদক প্রাপ্তিতে সত্যি আনন্দিত। অভিনন্দন সুবর্ণা আপা। তোমার এই প্রাপ্তি, আমাদের প্রাপ্তি.. অনেক অনেক শুভকামনা ও ভালোবাসা তোমার জন্য।

নাট্য নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী লেখেন, প্রিয় সুবর্ণা আপা, কথাটা শোনার পর থেকেই ভাবছিলাম কী লিখব! শরীরটা ভালো না আমার। হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে গিয়েছি! নয়তো ঠিক ঠিক তোমার কাছে এসে তোমাকে জড়িয়ে ধরতাম!  তোমার একুশে পদক তোমাকে আরও সম্মানিত করলো! আমরা সব্বাই অনেক অনেক খুশি। তুমি তোমার জায়গাতে একমাত্র। অনলি ওয়ান। অভিনন্দন তোমাকে।

এ ছাড়া মাজনুন মিজান, সুমাইয়া শিমু, রুনা খান, কবির বকুল, বিপাশা হায়াত, রুম্মান রশীদ খান, নাজিবা বাশার, ফারহানা নিশো, শাহনেওয়াজ কাকলী, রুবাইয়াত আহমেদ, সোহানা সাবা, বিজরী বরকতুল্লাহসহ অনেকে সুবর্ণাকে শুভেচ্ছা জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।

এবার যারা একুশে পদক পাচ্ছেন

অধ্যাপক হালিমা খাতুন (ভাষা আন্দোলন, মরণোত্তর), অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু (ভাষা আন্দোলন), সুবীর নন্দী (শিল্পকলা, সংগীত), আজম খান (শিল্পকলা, সংগীত, মরণোত্তর), খায়রুল আনাম শাকিল (শিল্পকলা, সংগীত), লাকী ইনাম (শিল্পকলা, অভিনয়), সুবর্ণা মুস্তাফা (শিল্পকলা, অভিনয়), লিয়াকত আলী লাকী (শিল্পকলা, অভিনয়), সাইদা খানম (শিল্পকলা, আলোকচিত্র), জামাল উদ্দিন আহমেদ (শিল্পকলা, চারুকলা), ক্ষীতিন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য (মুক্তিযুদ্ধ), ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ (গবেষণা), ড. মাহবুবুল হক (গবেষণা), ড. প্রণব কুমার বড়ুয়া (শিক্ষা), রিজিয়া রহমান (ভাষা ও সাহিত্য), ইমদাদুল হক মিলন (ভাষা ও সাহিত্য), অসীম সাহা (ভাষা ও সাহিত্য), আনোয়ারা সৈয়দ হক (ভাষা ও সাহিত্য), মইনুল আহসান সাবের (ভাষা ও সাহিত্য), হরিশংকর জলদাস (ভাষা ও সাহিত্য)।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত