সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রোহিঙ্গাদের জন্য যে অবদান রাখছেন জোলি

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৭:৫৪ পিএম

হলিউডের জনপ্রিয় ও বিখ্যাত অভিনেত্রী, জাতিসংঘের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলির বাংলাদেশ সফর শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায় বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। 

এর আগে সোমবার তিনি বাংলাদেশে আসেন। সোম ও মঙ্গলবার তিনি কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। বুধবার তিনি দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেনের সঙ্গে।

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি এমন সময় রোহিঙ্গাদের দেখতে এলেন যখন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ৯২ কোটি ডলার অনুদান সংগ্রহের লক্ষ্যে নেমেছে।   

যাওয়ার আগে জোলি বলেছেন, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়া ১০ লাখ রোহিঙ্গার বিষয়ে বিশ্বের নীরব থাকলে চলবে না।

বৃহস্পতিবার ইউএনএই্চসিআর এর এক বিবৃতিতে এমনটা জানান হয়।

এতে আরো বলা হয়, হলিউড তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ রোহিঙ্গাদের ওপর কয়েক দশক ধরে চলে আসা সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ না নেয়া পর্যন্ত তৎপর থাকবেন।  

ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০১৯ সালে তারা রোহিঙ্গাদের জন্য অনুদান সংগ্রহের বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে 'জয়েন্ট রেসপনস প্ল্যান' (জেআরপি)। এই কর্মসূচি শুরু হবে সামনের সপ্তাহে।

তার আগে জোলির এ সফর বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের দিকে বিশ্বের নজর ফেরাতে। এই কর্মসূচির আওতায় ৯২ কোটি ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া জোলি বিশ্বের বিভিন্ন দাতা দেশকে রোহিঙ্গাদের দুরবস্থার কথা জানাবেন বলে তার সফরকালে উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত জাতিগোষ্ঠী মন্তব্য করে হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেছেন, তাদের নাগরিকত্বসহ সব অধিকার দিয়ে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত। এ জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ৫নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক ব্রিফিংয়ে জোলি বলেন, 'আমি দুই দিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন জায়গা ঘুরেছি। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে আমি উপলব্ধি করতে পেরেছি যে, মিয়ানমার সরকার তাদের ওপর নৃশংস নির্যাতন চালিয়েছে।

তিনি বলেন, 'আমি এক রোহিঙ্গা নারীকে প্রশ্ন করেছিলাম- তাদের দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাবে কি না? জবাবে তিনি আমাকে জানিয়েছেন- তাকে গুলি করে মেরে ফেললেও মিয়ানমারে ফিরে যাবেন না।'

এই হলিউড অভিনেত্রী বলেন, 'এতে বোঝা যায়- মিয়ানমারের রাখাইনে এখনো নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি। তাই বিশ্ব সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।'

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত