সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রূপায়ণ সিটি উত্তরা প্রকৃতির কোলে শান্তির নিবাস

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:০৬ পিএম

বিলাসী সব আয়োজনে প্রকৃতির কোলে নগরবাসীর জন্য শান্তির নিবাস গড়ে তুলছে রূপায়ণ সিটি উত্তরা। বিপুল কর্মযজ্ঞে স্বপ্ন থেকে ইঞ্চি ইঞ্চি করে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে বিশ্বমানের পরিকল্পিত এই নগর। বিমানবন্দরের কাছে ঢাকার উত্তরার ৩০০ ফুট চওড়া সোনারগাঁও জনপথ রোড ঘেঁষে প্রকল্পটি মেট্রোরেলের মূল স্টেশন থেকে হাঁটাপথের দূরত্বে।

ঢাকার প্রথম ‘মেগা প্রিমিয়াম গেটেড কমিউনিটি’ রূপায়ণ সিটি উত্তরার ৬২ শতাংশ জমি থাকছে খোলা জায়গা। ষড়ঋতুর নান্দনিক সব ফুলের বাগান, দেশি-বিদেশি বৃক্ষের সমাহার, প্রশস্ত হাঁটার রাস্তা, স্বচ্ছ পানির প্রাকৃতিক লেক, সবুজ ঘাসের খেলার মাঠসহ নানা আয়োজন দৃশ্যমান হচ্ছে মুহূর্তে মুহূর্তে। প্রকৃতির সঙ্গে নান্দনিক বিলাসী শহুরে আয়োজনে গড়ে উঠছে বাস্কেট বল কোর্ট, সুইমিং পুল, ক্লাবঘর, একান্তে ব্যবহারের জন্য সুইমিং পুল, ব্যায়ামাগারসহ প্যান্থহাউজ ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট।

গতকাল বৃহস্পতিবার রূপায়ণ সিটি উত্তরা সরেজমিনে দেখা গেছে, চারটি ফেইজের এ প্রকল্পের ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্টগুলোর আয়তন হবে ৩ হাজার বর্গফুট থেকে সাড়ে ৭ হাজার বর্গফুট পর্যন্ত। বিশাল আয়তনের একটি ডুপ্লেক্স ভবনের চতুর্থ তলা নির্মাণকাজ চলছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় তলায় একটি ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্টের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন ভেতরের ডিজাইনের কাজ চলছে। প্রথম ও চতুর্থ ফেইজের বেশ কয়েকটি সিমপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট ভবনও নির্মাণ চলছে। বেশ কয়েকটি ভবন ১০ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে, এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ।

তৃতীয় ফেইজে থাকছে বিশ্বমানের শপিং মল, অফিস টাওয়ার, পাঁচতারকা হোটেল ভবন। এর নির্মাণকাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। ১২০ ফুট চওড়া অ্যাভিনিউ সড়কের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। পাঁচতলাবিশিষ্ট নান্দনিক মসজিদ নির্মাণের কাজ প্রায় অর্ধেক এগিয়েছে। খেলার মাঠও নির্মাণ করা হচ্ছে। এ বছরের মধ্যেই অ্যাপার্টমেন্ট হস্তান্তর শুরুর আগেই পুরো এলাকা সবুজে সাজাতে নানা জাতের ফুল, সারি সারি পাতাবাহার ও বৃক্ষ লাগানো হয়েছে, শোভা পাচ্ছে বাহারি রকমের ফুল-পাতা। আবাসিক ভবনের তিনটি ফেইজের প্রতিটিতেই থাকছে একটি করে স্কুল ও মসজিদ।

রূপায়ণ সিটি উত্তরার ভাইস চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল বলেন, এখানে আধুনিক নাগরিক সুবিধার সবকিছুই আছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের, বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক বিকাশের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্ট এরিয়াতে খেলার মাঠের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া ৭ কিলোমিটারের মতো হাঁটার সুবিধাসহ পার্ক থাকবে। এ ছাড়া একটি প্রকল্পে আরও যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা উচিত, তার সবই থাকছে।

গতকাল রূপায়ণ সিটি উত্তরার শুভেচ্ছাদূত হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হতে গিয়ে পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন ক্রিকেটার মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। প্রকল্প পরিকল্পনা ও নির্মাণযজ্ঞ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রজেক্টটি বেশ বড় ও সুন্দর। এখানে যারাই আসবেন অনেক আনন্দ পাবেন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সবকিছুই উপভোগ করবেন।’  রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন (অব.) পি জে উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, ‘ভারতের বিখ্যাত স্থাপত্যবিদ ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্টগুলোর নকশা করেছেন। এটি কেবল এশিয়ার সেরাই নয়; ২০১৮ সালে সারা বিশ্বের স্থাপত্যবিদদের করা নকশাগুলোর মধ্যে শীর্ষ পঞ্চম পুরস্কার জিতেছে রূপায়ণ সিটি উত্তরা। প্রথম চতুর্থ ফেইজের অ্যাপার্টমেন্ট এ বছরের মধ্যেই ক্রেতাদের কাছে হস্তান্তর শুরু করব। ২০২২ সালের মধ্যে অ্যাপার্টমেন্টগুলো হস্তান্তর সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।’

‘এখানে যারাই আসছেন, সব আয়োজন দেখে তারা সবাই বিস্মিত ও মুগ্ধ হচ্ছেন। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা প্রকল্প ঘুরে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কিছুদিন আগে এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি ও নিটোল নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমেদ প্রকল্প এলাকা দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, রূপায়ণ সিটি উত্তরা এশিয়ায় সেরা প্রকল্প’Ñ যোগ করেন তিনি।

কর্মকর্তারা জানান, ১৪০ বিঘা জমির মধ্যে মাত্র ৩৮ শতাংশে ভবন নির্মাণ করছে রূপায়ণ সিটি উত্তরা। বাকি ৬২ শতাংশ জমিই রাস্তা, খেলার মাঠ, সবুজে ভরা বাগানে ভরে উঠছে। ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা অ্যাপার্টমেন্টের ভেতর থেকে যেদিকেই তাকাক না কেন, তাদের দৃষ্টি আটকে যাবে না অন্য কোনো ভবনের দেয়ালে।

বৃক্ষরাজিতে সাজানো প্রাকৃতিক সবুজে চোখ জুড়াবে তাদের। প্রতিটি ডুপ্লেক্স ভবনের মধ্যে থাকছে একটি করে পাঁচতারকা মানের সুইমিং পুল। টপ ফ্লোরের বাসিন্দারা অ্যাপার্টমেন্টের সঙ্গেই পাবেন স্বতন্ত্র একটি করে সুইমিংপুল, যা প্যান্থহাউজ অ্যাপার্টমেন্ট নামে খ্যাত। নির্মাণাধীন ডুপ্লেক্স ভবন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্টের জন্য রয়েছে পৃথক সিঁড়ি। এর বাইরে সাধারণ সিঁড়ি থাকছে।

 প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রথম ও চতুর্থ ফেইজের সিমপ্লেক্স ভবনগুলোর নির্মাণকাজও চলছে। চতুর্থ ফেইজের পাঁচটি ভবন একই বেইজমেন্টে ১০ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। একই বেইজমেন্টের ওপর হওয়ার কারণে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেও কোনো ক্ষতি হবে না ভবনগুলোর। বেইজমেন্টের পর থেকেই প্রতিটি ভবন আলাদা আলাদাভাবে উঠে গেছে ১০ তলা পর্যন্ত। প্রথম ফেইজেও আটতলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। দ্রুত নির্মাণকাজ চলছে। কর্মকর্তারা জানান, এসব ভবনের প্রতিটার সামনে দিয়ে চওড়া রাস্তা রয়েছে। কিন্তু ভবনগুলোর কোনো পেছন সাইট থাকছে না। প্রতিটি ভবনের মাঝখানে রয়েছে সুবিশাল খেলার মাঠ। ভবন থেকে নেমে খেলার মাঠে যেতে বাচ্চাদের কোনো রাস্তা পারাপারের দরকার হবে না। বাচ্চার মাঠের খেলা অ্যাপার্টমেন্টে বসেই দেখতে পারবেন মা-বাবা। খেলার মাঠগুলোর চারপাশেই থাকছে চওড়া জগিং (হাঁটার) রাস্তা। বাসা থেকে নিচে নেমে কোনো রাস্তা পারাপার ছাড়াই আবাল-বৃদ্ধ-বনিতারা জগিং করতে পারবেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত