সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

খালেদার কারাবাসের এক বছর

আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৫৯ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করার লড়াইয়ে সফল হয়নি তার দল। বিএনপির শীর্ষ নেতারা এই ব্যর্থতার দায় স্বীকারও করছেন। বলছেন, নেত্রীর মুক্তির জন্য আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নতুন উদ্যোমে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অবশ্য তাকে মুক্ত করতে রাজপথে ‘জোরদার আন্দোলন করতে না দেওয়ার’ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করছেন বিএনপি নেতারা। খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেও বলে আসছেন তারা। তবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের বর্ষপূর্তি সামনে রেখে তার মুক্তির দাবিতে দুদিনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। আজ ৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এবং আগামীকাল ৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার দেশব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশ করবে দলটি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালত পাঁচ বছরের কারাদ- দেয়। সেদিনই তাকে নেওয়া হয় ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। একই মামলায় গত ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে। এর আগের দিন ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় তাকে সাত বছরের কারাদ- দেয় বিচারিক আদালত। খালেদা জিয়া এর আগে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন। তখন তাকে রাখা হয় সংসদ ভবন এলাকার বিশেষ কারাগারে। সেখান থেকে তিনি মুক্ত হন ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। এছাড়া এইচ এম এরশাদের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় কয়েকবার বন্দি হন বিএনপিনেত্রী।

খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা আছে। গত এক বছর একের পর এক মামলায় উচ্চ ও নিম্ন আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন ও কারামুক্তির জন্য আইনি লড়াই চালিয়েছেন তারা। পাশাপাশি তার মুক্তির জন্য মানববন্ধন, কালো পতাকা প্রদর্শন, অবস্থান কর্মসূচি, অনশন, স্মারকলিপি দেওয়ার মতো কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। তবে জোরদার কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি দলটি।

এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নেত্রীর মুক্তির দাবিতে রাজপথে জোরদার আন্দোলন আমরা গড়ে তুলতে পারিনি। এটা আমাদের ব্যর্থতা। অতীতের ভুল-ত্রুটি পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন উদ্যোমে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে নেত্রীর মুক্তির জন্য। তবে খালেদা জিয়া আজকে জেলে এজন্য শুধু বিএনপি ব্যর্থ তা বলা যাবে না। এটা দেশ, দেশের রাজনীতি ও সরকারের ব্যর্থতা। কারণ এই খালেদা জিয়া নয় বছর স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন। আজ তাকে বন্দি করে সরকার দেশের গণতন্ত্রকে বন্দি করেছে।’

খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, বিচার বিভাগ এক ব্যক্তির অধীন। বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। এ অবস্থায় আইনগতভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি সম্ভব নয়। আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বেগম জিয়ার যে মামলায় সাজা হয়েছে তা জামিনযোগ্য। সরকার মুক্তি তো দূরের কথা, তার জামিন পর্যন্ত দিচ্ছে না।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য যে আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার বিএনপি তা গড়ে তুলতে পারেনি। এ বিষয়টিকে বিএনপির ব্যর্থতা বলা যাবে। তবে একই সঙ্গে এটাও বলতে হবে সরকার বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনও করতে দেয়নি। মানববন্ধন, গণঅনশনের মতো শান্তিপূর্ণ বিভিন্ন কর্মসূচি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভুল করে দিয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে যে কার্যকর গণআন্দোলন গড়ে তোলার দরকার ছিল, বিএনপি তা করতে পারেনি। এজন্য বিএনপি যেমন দায়ী, তেমনি সরকারও কম দায়ী নয়। সরকার বিএনপিকে রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।’

বিএনপি কেন রাজপথে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি জানতে চাইলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ও বিএনপিপন্থি পেশাজীবী নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার আগে নেতাদের জ¦ালাও-পোড়াও আন্দোলন না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই জেলের বাইরে থাকা নেতারা সেদিকে যাননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজকে শুধু বেগম জিয়া জেলে নয়, দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার বন্দি। দেশে গণতন্ত্র নেই বলে খালেদা জিয়া আজ জেলে। মোট কথা এটা দেশের ব্যর্থতা।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত