বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য হচ্ছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:৩৩ এএম

দেশে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য নেই। এ কারণে উচ্চশিক্ষাকে সঠিক মানে উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করে আসছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার।

এ লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের ২০ কোটি ডলার (প্রায় ১ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা) অর্থায়নে ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’ (হিট) নামে একটি নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী জুন-জুলাইয়ের মধ্যে প্রকল্পটি চালু হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। বর্তমানে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে আরও কী কী উদ্যোগ নেওয়া যায়Ñ এ নিয়ে বৈঠক করছেন শিক্ষাবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশ্বব্যাংক, ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। গতকাল বৃহস্পতিবারও ইউজিসিতে এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, ‘নতুন এই প্রকল্পের মূল কাজ হবে গ্রাজুয়েটদের সক্ষমতা বৃদ্ধি। নতুন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিকল্পনা আগেও আমাদের ছিল। কিন্তু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এবার আশা করছি হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রকল্পের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে রয়েছে গ্রাজুয়েটদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা, গবেষণার উৎকর্ষ ও মান ত্বরান্বিত করা।’

প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের বিষয়ে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘এক সময় সবার ধারণা ছিল, শুধু স্কুল-কলেজের শিক্ষকদেরই প্রশিক্ষণ নিতে হয়। কিন্তু এখন সময়ের পরিবর্তন হয়েছে। উচ্চশিক্ষা স্তরে যেসব শিক্ষার্থী রয়েছেন তাদের পড়াতে হলেও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। নয়তো উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।’ প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউট থেকে জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরাও প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন বলে জানান তিনি।

‘হিট’ প্রকল্প ডিজাইনের মূল দায়িত্বে রয়েছেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ আলী মোল্লা। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্পের অন্যতম উদ্যোগ হবে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। কারণ, কোনো ছাত্র মাস্টার্স শেষ করার কিছুদিন পর শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে প্রশিক্ষণ ছাড়াই মাস্টার্সের ছাত্র পড়াবে। এটা কেমন হওয়া উচিত, ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত সেটা তাকে জানতে হবে।’

কবে নাগাদ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো প্রকল্পের ডিজাইন শেষ হয়নি। প্রকল্পটি কীভাবে পরিচালিত হবে, কোন কোন বিষয়ের ওপর কাজ করবে, এর সঙ্গে কারা জড়িত থাকবে তার ডিজাইন করা হচ্ছে। এ নিয়ে আমরা স্টক হোল্ডারদের নিয়ে বেশ কয়েকটি সভা করেছি। আরও কিছু সভার প্রয়োজন রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এ বছরের মাঝামাঝি সময়ে প্রকল্পটি চালু হবে।’ প্রকল্পের আওতায় দেশের পাবলিক-প্রাইভেট সব বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত