শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সেই আবু সালেকের বাড়িঘর বিরান

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:৫১ এএম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভুলে সোনালী ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতির মামলায় তিন বছর ধরে নিরপরাধ ব্যক্তির কারাভোগের ঘটনায় আলোচিত নাম আবু সালেক। প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা হয়েছিল, যাতে তিন বছর কারাভোগ করতে হয়েছে পাটকল শ্রমিক টাঙ্গাইলের জাহালমকে। দুদক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্তে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গিয়া গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের ছেলে হিসেবে আবু সালেক শনাক্ত হলেও তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে হাইকোর্টের আদেশে এরই মধ্যে মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে মুক্ত হয়েছেন জাহালম।

ঠাকুরগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) চিত্তরঞ্জন রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, তিন মাস আগে দুদক থেকে সালেকের নাম-ঠিকানা শনাক্ত করতে চিঠি এসেছিল। তবে সালেককে গ্রেপ্তারে কোনো নির্দেশনা আসেনি। বিষয়টি আলোচিত হওয়ায় পুলিশ বিশেষভাবে সতর্ক অবস্থানে আছে, নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
আবু সালেকের অপকর্মের জন্য শাস্তি চেয়ে তার বাবা আবদুল কুদ্দুস বলেন, তার ছেলে এক বছর ধরে লাপাত্তা। তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। সরেজমিনে গেলে তার ভগ্নিপতি খাদেমুল ইসলাম আবু সালেকের ভিটেমাটি-সম্পত্তি ঘুরিয়ে দেখান। অনুসন্ধানে দেখা যায়, আবু সালেকের পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা শহরে দুটি স্থানে প্রায় কোটি টাকার জমি পড়ে আছে। এক জায়গায় প্রায় ১৮ শতক জমির ওপর একটি সেমিপাকা বাড়ির গেটে ঝুলছে তালা। বছরখানেক হলো এই বাড়ি ব্যবহার হয় না বলে জানান স্থানীয়রা। বোদা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে প্রায় ১৮ শতক জমি ভাড়া দিয়েছেন। চার বছর ধরে এলাকার রশিদা বেগম বেকারি চালাচ্ছেন। এখন ভাড়া আদায় করা হচ্ছে চার হাজার ৭০০ টাকা করে। আবু সালেকের হয়ে তার ম্যানেজার সুভাস ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এই কারখানার ভাড়ার টাকা আদায় করেন বলে জানান রশিদা বেগম। এরপর আবু সালেকের বাবা ভাড়ার টাকা নেওয়ার জন্য এলেও দেড় লাখ টাকার জামানত ফেরতের নিশ্চয়তা না দেওয়ায় ভাড়া দেওয়া হচ্ছে না।সালেকের বাড়ি বালিয়া সিঙ্গিয়া গ্রামে হলেও টেলিভিশন ও ফ্রিজের শোরুম নিয়েছেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা শহরে। সেখানে দুটি স্থানে জমিও কিনেছেন। বোদায় সালেকের বড় ভগ্নপতি খাদেমুল ইসলাম এসবের পেছনে সহযোগিতা করেছেন বলে এলাকাবাসী জানায়।

গ্রামের বাসিন্দারা বলছে, সালেকের অপকর্মের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর তার বাবা ও ভগ্নিপতি এসব সম্পত্তি তাদের আয়ত্তে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এখন তার বাবা কুদ্দুস ও ভগ্নিপতি খাদেমুল নিজেদের বাঁচাতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন।বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর এ ছিদ্দিকী বলেন, ‘সালেকের পরিবারের লোকজনকে আটক করে রিমান্ড নিলেই সালেককে ধরা ও তার সম্পর্ক জানা যাবে।’ তবে সালেকের বাবা ও তার ভগ্নিপতি তার অপকর্মের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে আবু সালেকের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা। আবু সালেকের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আবদুল কুদ্দুস।

আদালতকে মানবাধিকার কমিশন বলেছে, আবু সালেক উচ্চ মাধ্যমিক পাস। একসময় জাতীয় পরিচয়পত্রের ডেটা এন্ট্রির কাজ করতেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি ব্যাংক জালিয়াতি করেছেন। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক বছর আগে সালেক ঠাকুরগাঁও শহরে ৫ শতক জমি কেনেন। জমি এবং দোকান আছে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলাতেও।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত