মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

দিল্লির কুয়াশার কারণে শীত নেই বাংলাদেশে

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৩৫ পিএম

ভারতের দিল্লি ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুয়াশার কারণে ঢাকাসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উষ্ণতা বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ জার্নালে গত ৩১ জানুয়ারি গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থলভাগের কুয়াশার মধ্যে থাকা কার্বন কণা সূর্যালোকের সাতটি রংকে প্রায় পুরোপুরি শুষে নিতে পারে বলে তাদের কালো দেখায়। কিন্তু দিল্লি ও উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে স্থলভাগের ওপর দিয়ে সমুদ্র হয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর দিকে উড়ে যেতে যেতে কার্বন কণার আলো শুষে নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে তাদের গায়ের রং বাদামি হয়ে পড়ছে।

গবেষণা বলছে, আলো শুষে নেওয়ার ক্ষমতা কমে গেলেও কুয়াশায় থাকা ওই কার্বন কণারা সমুদ্রের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বেশিদিনের আয়ু লাভ করে। যার অর্থ, দিল্লিসহ উত্তর-পশ্চিম ভারতে যে আয়ু ছিল ৩ দশমিক ৬ দিন, তা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে বেড়ে হয় ৯ থেকে ১৫ দিন।

ফলে বাদামি রঙের কার্বন কণাগুলি আরও বেশি দিন থাকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে।

গবেষকরা দেখেছেন, এটাই ওই অঞ্চলে উষ্ণায়নকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কুয়াশাকে আবহবিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয়, ‘অ্যাটমস্ফেরিক ব্রাউন ক্লাউড’ (এবিসি)। যানবাহনের ধোঁয়া, জীবাশ্ম জ্বালানি ও অন্যান্য উৎস থেকে যে বিষাক্ত কার্বন মৌল ও যৌগের কণা বেরিয়ে আসে তারাই মূলত থাকে এবিসিতে।

বায়ুমণ্ডলের একটি বিশেষ স্তরে থাকে ওই কার্বন কণারা। যারা সূর্যালোকের সাতটি রঙের বেশির ভাগটাই শুষে নেয়। ব্লটিং পেপারের মতো। বিচ্ছুরণও (স্ক্যাটারিং) করে, তবে তা খুবই সামান্য পরিমাণে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, তারা শুধু শীতের আবহাওয়া ধরেই গবেষণা করেছেন। তারা দেখতে চাইছেন, বাতাসে থাকা ওই কার্বন কণাদের সূর্যোলোক শুষে নেওয়ার ক্ষমতার তারতম্য শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা মৌসুমে কতটা বদলাচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত