রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

'রোহিঙ্গাদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে আন্তর্জাতিক এনজিওকর্মীদের থাকা-খাওয়ায়'

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৪৮ পিএম

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দ অর্থ ব্যয় হচ্ছে আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য।

তাদের দামি গাড়ি ব্যবহার, বেশি বেতনে চাকরি ও ফাইভ স্টার হোটেলে থাকা-খাওয়াসহ আলিশান জীবনযাপনে এসব অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কক্সবাজার ‘সিএসও-এনজিও’ ফোরাম (সিসিএনএফ)।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন, সিসিএনএফ কো-চেয়ারম্যান আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা। সিসিএনএফ-এর কো-চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন মুক্তি কক্সবাজারের সমন্বয়ক অশোক কুমার সরকারসহ ওই ফোরামের নেতৃবৃন্দ।

তিনি লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মোট ১২৩ দেশি-বিদেশি এনজিও কাজ করছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক এনজিও রয়েছে ২১টি এবং কক্সবাজারের স্থানীয় এনজিও রয়েছে ৫টি। অন্যান্যরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে কাজ করছে। এসব এনজিও বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করছে। যার উল্লেখযোগ্য অংশ আন্তর্জাতিক এনজিওতে কর্মরত-কর্মকর্তার বিলাসিতায় ব্যয় করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যৌথ সাড়া পরিকল্পনা (জেআরপি) অনুযায়ী ২০১৮ সালে রোহিঙ্গাদের জন্য ৯৫০.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। যার বিপরীতে মোট ৬৫৫.০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ হয়। এই পরিকল্পনার বাইর থেকে আসে মোট ৭২.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতি পরিবারের জন্য এক বছরে ২১৫ মার্কিন ডলার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি আশঙ্কা করে বলেছেন, হিসাব অনুযায়ী সব অর্থ এ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য ব্যয় হয়নি। আমরা অনেকবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে এই বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। কিন্তু, কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। আমাদের দাবি হচ্ছে, সরকার এসব এনজিওদের নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। যানবাহন ব্যয় কমাতে হবে এবং বিদেশি এনজিওদের আলিশান জীবন-যাপনের প্রতি বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ স্থানীয়দের চাকরি দিতে হবে। যদি সম্ভব না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করবে কক্সবাজারে’।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত