শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

উপজেলা চেয়ারম্যান মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব তৃণমূল আ.লীগে

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:২৩ এএম

প্রথম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। প্রথম ধাপে ৮৭ উপজেলায় ভোটের জন্য গতকাল সোমবার ছিল মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন। যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারিত আছে। এর মধ্যে গতকাল ফরিদপুরের নগরকান্দা, নেত্রকোনার বারহাট্টা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ারনবীনগর উপজেলায় দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করেছেন প্রতিপক্ষ নেতারা। দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত:ফরিদপুর: নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জামান সরদারকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিবাদে এবং প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অংশ।

সোমবার দুপুরে নগরকান্দা উপজেলা পরিষদ এলাকায় মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। তারা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমাবেশ করে।

এই সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় তৃণমূল নেতাদের ভোটের মাধ্যমে ৩০ ভোট পাওয়া কাজী শাহ জামান বাবুলকে মনোনয়ন দেওয়ার সুপারিশ করলেও কীভাবে ২৩ ভোট পাওয়া মনিরুজ্জামান সরদারকে মনোনয়ন দেওয়া হলো তা বোধগম্য নয়। তারা কাজী শাহ জামাল বাবুলকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি করেন।

মানববন্ধনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মানোয়ার হোসেন, সহসভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবুল কালাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান পথিক তালুকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

নেত্রকোনা: বারহাট্টা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনীত প্রার্থীর প্রার্থিতা পুনর্বিবেচনা করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বারহাট্টা উপজেলার নিজ কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেন মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মাইনুল হক কাসেম।

এ সময় মাইনুল হক কাসেম বলেন, বারহাট্টা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে অধ্যাপক গোলাম রসুলকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি একজন দল ও জনবিচ্ছিন্ন প্রার্থী। বারহাট্টা উপজেলা তৃণমূল থেকে শুরু করে দলীয়ভাবে কারও সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। গত ১ ফেব্রুয়ারি বর্ধিত সভায় তৃণমূলের কাছে তিনি নির্বাচিত হতে পারেননি।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম বকুল, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধীর দত্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক দিপক কুমার সাহা সেন্টু প্রমুখ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নবীনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুল কর্র্তৃক বাছাইকৃত আওয়ামী লীগের ‘একক প্রার্থী’ হাবিবুর রহমান স্টিফেনকে নিয়ে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নবীনগরের রাজনীতি। তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কয়েকজন প্রার্থীর নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলাসহ বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি পদদলিত করার অভিযোগ উঠেছে।

গত রোববার সন্ধ্যায় স্টিফেন সমর্থকরা নবীনগরে বিক্ষোভ মিছিল করে মনোনয়ন বঞ্চিত তিন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্য কাজী জহির সিদ্দিক টিটু, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক এইচ.এম আল-আমিন আহমেদের লাগানো কিছু নির্বাচনী ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে।জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস বলেন, হাবিবুর রহমান স্টিফেন নবীনগরের রাজনীতিকে নষ্ট করার অপচেষ্টা করছেন। এরই অংশ হিসেবে নবীনগর আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত নাসির ও কুখ্যাত রাজাকার ফুল মিয়ার ছেলে শামীম রেজার নেতৃত্বে একদল উচ্ছৃঙ্খল ছেলে পোস্টার-ব্যানারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননা ও পদদলিত করছে।দেশের ৪৯২টি উপজেলার মধ্যে অন্তত ৪৮০টিতে এবার ভোট হচ্ছে। মার্চ মাসেই পরবর্তী চারটি ধাপের ভোটগ্রহণ হবে। দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ, তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ, চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ  হবে ভোট। পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোট হবে ১৮ জুন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত