মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তরুণীকে আটকে ধর্ষণের ‘সত্যতা মিলেছে’

সাটুরিয়া থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩৪ এএম

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ঘটনায় ওই তরুণী গতকাল সোমবার রাতে মামলা করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন সাটুরিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেকেন্দার হোসেন ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মাজহারুল ইসলাম। মামলার পর রাতেই মানিকগঞ্জ হাসপাতালে তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গত রবিবার পুলিশ সুপারের কাছেনির্যাতনের শিকার তরুণীর লিখিত অভিযোগের পর মানিকগঞ্জ সদর সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুর রহমান ও বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হামিদুর রহমান সিদ্দিকীর সমন্বয়ে গঠিত কমিটি গতকাল এর তদন্ত করে।এ ব্যাপারে হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘দিনভর প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, ওই তরুণীর অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণে মেডিকেল পরীক্ষাসহ প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধীকে পুলিশ সদস্য হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’ সাটুরিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ মামলাটি তদন্ত করবেন বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। সাটুরিয়া থানার ওসি আমিনুল ইসলাম মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসামিরা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক লুৎফর রহমান জানান, গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। তিনিসহ গাইনি কনসালট্যান্ট নাসিমা আক্তার, ডা. রফিকুল ইসলাম, রেডিওলজিস্ট ডা. হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়ার মেডিকেল বোর্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

পাওনাদার নারীর সঙ্গে আসা ওই তরুণীকে সাটুরিয়া ডাকবাংলোয় দুদিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর এসআই সেকেন্দার ও এএসআই মাজহারুলকে গত শনিবার রাতেই প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। ঢাকার আশুলিয়ার বাসিন্দা ওই নারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, আশুলিয়া থানায় থাকার সময় সেকেন্দার তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নিয়ে জমি কেনেন। জমি বিক্রির লাভের অংশ হিসেবে তিনি প্রায় তিন লাখ টাকা পাবেন। কিন্তু টাকা শোধ না করে সেকেন্দার তাকে ঘোরাতে থাকেন। পাওনা আদায়ে গত বুধবার তিনি তার এক ভাগ্নিকে (২০) সঙ্গে নিয়ে সাটুরিয়া থানায় গেলে সেকেন্দার তাকে টাকা দেওয়ার কথা বলে ডাকবাংলোতে নিয়ে যান।অভিযোগকারী জানান, সন্ধ্যার পর সাটুরিয়া থানার এএসআই মাজহারুলকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গিয়ে সেকেন্দার তাদের হুমকি-ধমকি দেন। পরে ডাকবাংলোর একটি কক্ষে নিয়ে তারা ইয়াবা সেবন করেন ও তার ভাগ্নিকেও জোর করে ইয়াবা সেবন করান। পরে ওই তরুণীকে সারা রাত আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। বৃহস্পতিবার সকালে সাটুরিয়া থানার ওসি ডাকবাংলোয় গিয়ে ওই নারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে দুই পুলিশ কর্মকর্তার হুমকির কারণে তারা ওসিকে ধর্ষণের কথা জানানোর সাহস পাননি। ওসির উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই নারীকে বিকেল পর্যন্ত সেখানেই অপেক্ষা করতে বলেন এসআই সেকেন্দার। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হওয়ার পর ওই দুই কর্মকর্তা সেখানে পৌঁছালেও তাদের টাকা দেননি এসআই সেকেন্দার। আগের রাতের মতোই তারা তার ভাগ্নিকে ধর্ষণ করেন। পরে শুক্রবার সকালে পাঁচ হাজার টাকা হাতে দিয়ে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেন।নির্যাতনের শিকার তরুণী বলেন, ঘটনা প্রকাশ করলে তাদের গুম করার হুমকি দিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। শুক্রবার সকালে সেখান থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সাভারে ফিরে পরিচিত সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান তিনি। পরে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে এসআই সেকেন্দার হোসেন ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, এক নারী তার কাছে পাওনা টাকার জন্য সাটুরিয়া এসেছিলেন। তাকে কিছু টাকা দেওয়াও হয়েছে। মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামিম গত রবিবার রাতে বলেন, ঘটনা প্রমাণিত হলে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ সদস্য হিসেবে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত