নারায়ণগঞ্জের মেঘনা থেকে চট্টগ্রামের মদুনাঘাট পর্যন্ত ২১৪ কিলোমিটার ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার দাশ। ‘ঢাকা-চিটাগং মেইন পাওয়ার গ্রিড স্ট্রেংদেনিং’ প্রকল্পের আওতায় রাউজানের নোয়াপাড়ায় নির্মিত হয়েছে সাব-স্টেশন।কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ঢাকায় সরবরাহের জন্য ১ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গত ১১ জানুয়ারি ভারতের কে ই সি ইন্টারন্যাশনাল নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিজিসিবির চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পটিবাস্তবায়নে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে ৩৪ মাস।পিজিসিবি কর্মকর্তারা জানান, ‘ঢাকা-চিটাগং মেইন পাওয়ার গ্রিড স্ট্রেংদেনিং’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। বাংলাদেশে সরকার, জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা ও পিজিসিবি সম্মিলিতভাবে প্রকল্পটির অর্থায়ন করবে।পিজিসিবি চট্টগ্রামের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার দাশ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রামের প্রধান বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা ২৩০ ও ১৩২ কেভি। এই সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতাকে বাড়াতে ‘ঢাকা-চিটাগং মেইন পাওয়ার গ্রিড স্ট্রেংদেনিং’ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে মেঘনাঘাট থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত ২১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ৪০০ কেভি ডাবল সঞ্চালন লাইন নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে রাউজানে একটি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পের অধীনে বিদ্যুৎ খাতে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সঞ্চালন লাইন নির্মিত হবে। কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে নির্মাণাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ঢাকায় সরবরাহের জন্য এই ৪০০ কেভি ডাবল সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন সহজ হবে। সিস্টেম লস কমানোর পাশাপাশি কারিগরি জটিলতাও হ্রাস পাবে।
কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড। গত বছরের ২৮ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ৩৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২৩ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এখানকার দুটি ইউনিট থেকে মোট ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
