মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বুড়িগঙ্গায় তৃতীয় দফায় উচ্ছেদ শুরু আজ

৪৬ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিপাকে বিআইডব্লিউটিএ ইমন রহমান

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:২৭ এএম

ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে তৃতীয় দফায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার থেকে। পুরান ঢাকার লোহারপুল এলাকা থেকে এ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। বরাবরের মতো এই দফায়ও অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গী বন্দর এলাকায় নদীর জমিতে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রায় অর্ধশত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বারবার এসব স্থাপনা সরিয়ে নিতে অনুরোধ করা হলেও তা মানছে না সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে দখলদাররা তাদের অবৈধ স্থাপনা টিকিয়ে রাখার ঢাল হিসেবে উপাসনালয় গড়ে তুলছেন।

সম্প্রতি কামরাঙ্গীরচর এলাকায় দুই দফার উচ্ছেদ অভিযানে ১ হাজার ১৯৯টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। গত ৯ বছরে উচ্ছেদ হয়েছে মোট ১৪ হাজার ৬২ স্থাপনা। বিগত সময়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে নদীতীরের স্থাপনা উচ্ছেদের পরই আবার দখল হয়েছে। এবারের অভিযান আগের চেয়ে কঠোর বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সদরঘাট থেকে গাবতলী পর্যন্ত নদীর দুই তীরের সব অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবই ভাঙা হবে।’  অতীতে বিভিন্ন সময় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সরিয়ে নিতে বলা হলে তারা জমি দাবি করে বিআইডব্লিউটিএর কাছে। এ বিষয়ে সর্বশেষ গত রবিবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে (ডিএসসিসি) ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। মেয়রের নেতৃত্বে শিগগিরই ৪৬টি ধর্মীয় স্থাপনা অপসারণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকা বিআইডব্লিউটির যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িত। তাই এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ কম। সংশ্লিষ্টদের বুঝিয়ে স্থাপনাগুলো সরানোর ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সভায় উপস্থিত ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকনকে।’

ঢাকার চারপাশের নদীতীর দখল ও দূষণরোধে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে মেয়র সাঈদ খোকন ছাড়াও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ, জাতীয় নদীরক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মো. আফজাল, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, বিআইডব্লিউটিএ ২০১০ থেকে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের তীরভূমিতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ১২ হাজার ৮৬৩টি স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ৫২১ দশমিক ৬২ একর জমি দখলমুক্ত করেছে। ঢাকা নদীবন্দরের আওতাধীন কামরাঙ্গীরচর এলাকায় গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১ হাজার ১৯৯টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও প্রায় ১০ একর জমি উদ্ধার করেছে। তিনি জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিআইডব্লিউটিএ নদীর সীমানা নির্ধারণ করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গী বন্দর এলাকায় ৯ হাজার ৫৭৭টি সীমানা পিলার স্থাপন করেছে। এগুলোর মধ্যে ঢাকায় ৪ হাজার ৬৩টি, নারায়ণগঞ্জে ৫ হাজার ১১টি ও টঙ্গীতে ৫০৩টি। ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথে ১৩টি নিচু ব্রিজ সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত