রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

হাইকোর্টের সতর্কতা

মামলায় জড়িত শিশুর পরিচয় প্রকাশ অপরাধ

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩৯ এএম

শিশু আদালতে বিচারাধীন মামলায় জড়িত শিশুর পরিচয় প্রকাশ যে দণ্ডনীয় অপরাধÑ তা মনে করিয়ে দিয়ে সব সংবাদমাধ্যমকে সতর্ক করে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে একটি রিট আবেদনের রুল নিষ্পত্তি করে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণসহ এ রায় দেয়।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী সাগুফতা তাবাসসুম আহমেদ, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেছুর রহমান ও ডেইলি স্টারের পক্ষে আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম শুনানি করেন।

রায়ের পর আইনজীবী সুমন সাংবাদিকদের বলেন, শিশু আইনে বা কিশোর আদালতে কোনো মামলা যদি থাকে এবং এই মামলায় কোনো শিশু বা কিশোর জড়িত থাকলে তার নাম, ঠিকানা, পরিচয় ব্যবহার করা যাবে না কোনো মিডিয়াতে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সেজন্য ডেইলি স্টারসহ সব গণমাধ্যমের পাশাপাশি বিবাদীদের সতর্ক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রায়ে বলা হয়েছে, শিশু আইনের মূল উদ্দেশ্য কোনো মামলার বিচারের ক্ষেত্রে তাদের গোপনীয়তা রক্ষা করা, যা বিচারপূর্ব, বিচার চলা ও বিচার পরবর্তী সময় পর্যন্ত বোঝায়। তাদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করতে মর্যাদা বজায় রাখতে হবে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, প্রকাশিত খবরে শিশুর নাম, ঠিকানা, পরিচয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে এবং খবরে সঠিক শব্দ চয়ন না করে ডেইলি স্টার বেআইনি কাজ করেছে। যেহেতু বিষয়টি নতুন, তাই কোনো সাজা বা জরিমানা না করে সতর্ক করা হলো, যেন ভবিষ্যতে এমনটা আর না ঘটে। পাশাপাশি বিচারাধীন শিশুর ছবি, নাম, পরিচয়, প্রকাশ পায় বা শিশুকে চিহ্নিত করা যায়, এমন প্রতিবেদন যাতে ভবিষ্যতে কোথাও ছাপা না হয়, সে বিষয়ে সব সংবাদমাধ্যমকে সতর্ক থাকতে বলেছে হাইকোর্ট।

গত বছরের ৫ নভেম্বর ডেইলি স্টারে ‘বয় গেটস টেন ইয়ার্স ফর কিলিং ক্লাসমেট’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দণ্ডিত শিশুটির পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশে শিশু আইনের লঙ্ঘন হয়েছে জানিয়ে ১৮ নভেম্বর রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন।

আবেদনে শিশু আদালতে বিচারাধীন যেকোনো মামলার শিশু আসামি বা অভিযুক্তের নাম, পরিচয়, ঠিকানা, ছবিসহ তার পরিচিতি সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা বন্ধে নির্দেশনা চাওয়া হয়। পাশাপাশি এভাবে পরিচয় প্রকাশ বন্ধের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না সেই প্রশ্নে রুল চাওয়া হয়।

আইন সচিব, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন-আদালত-মানবাধিকার ও সংবিধানবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও ডেইলি স্টারের সম্পাদককে রিট আবেদনে বিবাদী করা হয়। ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে মঙ্গলবার রায় আসে।

শিশু আইনের ২৮ ধারায় ‘শিশু-আদালতের কার্যক্রমের গোপনীয়তা’ অংশে বলা হয়েছে

 ১. শিশু-আদালতে বিচারাধীন কোনো মামলায় জড়িত বা সাক্ষ্য প্রদানকারী কোনো শিশুর ছবি বা এমন কোনো বর্ণনা, সংবাদ বা রিপোর্ট প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মাধ্যম অথবা ইন্টারনেটে প্রকাশ বা প্রচার করা যাবে না, যা সংশ্লিষ্ট শিশুকে শনাক্ত করতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাহায্য করে।

২. উপ-ধারা ১ এ যাই থাকুক না কেন, শিশুর ছবি, বর্ণনা, সংবাদ বা রিপোর্ট প্রকাশ করা শিশুর স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হবে না মর্মে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হলে ওই আদালত সংশ্লিষ্ট শিশুর ছবি, বর্ণনা, সংবাদ বা রিপোর্ট প্রকাশের অনুমতি দিতে পারবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত