রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

উপজেলায় প্রার্থিতা নিয়ে দ্বন্দ্ব

রাজশাহীতে নৌকার প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ নেতারা

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:০০ এএম

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা ফাঁকা মাঠ পাচ্ছেন না। এখানকার আটটি উপজেলার ছয়টিতেই নৌকার প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে আছেন আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। অন্যদিকে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও রাজশাহীর তিন উপজেলায় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলের স্থানীয় নেতারা।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহীর আট উপজেলায় মোট ৯০ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ২৬, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৭ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৭ জন রয়েছেন। আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে পবা উপজেলায় আপাতত নির্বাচন হচ্ছে না।

চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিলকারীদের মধ্যে আছেন তানোরে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না ও ওয়ার্কার্স পার্টির শরিফুল ইসলাম; গোদাগাড়ীতে আওয়ামী লীগ মনোনীত জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিউজ্জামান, ওয়ার্কার্স পার্টির সাইদুর রহমান ও সালাউদ্দিন বিশ্বাস; দুর্গাপুরে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল মজিদ ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের মণ্ডল; মোহনপুরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম, জাতীয় পার্টির মনোনীত কামরুজ্জামান বুলু, জাতীয় পার্টির নেতা শহীদ ইবনে শাহাদত হোসেন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আফজাল হোসেন বকুল; বাগমারায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী অনিল কুমার সরকার, জেলা যুবলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বাবুল হোসেন ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডি এম জিয়াউর রহমান জিয়া; পুঠিয়ায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জি এম হিরা বাচ্চু, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আনসার আলী ও রাজশাহী জেলা বিএনপির নেতা মোখলেসুর রহমান; চারঘাটে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফখরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট টিপু সুলতান ও জাতীয় পার্টির মনোনীত অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন এবং বাঘায় আওয়ামী লীগের মনোনীত লায়েবউদ্দিন লাভলু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেরাজুল ইসলাম মেরাজ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুন ও জাতীয় পার্টির মনোনীত সামশুদ্দিন রিন্টু।

উপজেলায় বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় তেমন উত্তাপ নেই। তবে বিভিন্ন উপজেলায় নৌকার বিপক্ষে আওয়ামী লীগের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তি দেখা যাচ্ছে। তবে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান চঞ্চল বলেন, বিদ্রোহী থামাতে সাংগঠনিকভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। দলীয় প্রার্থীর বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের প্রত্যাহারের জন্য বলা হচ্ছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত হয়তো কেউ কেউ প্রত্যাহার করে নেবে। এরপরও যারা সরে দাঁড়াবেন না, তাদের বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি ভোটবর্জনের ঘোষণা দিলেও বাগমারা, পুঠিয়া ও বাঘায় চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির নেতারা। তবে বাগমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ডি এম জিয়াউর রহমান বলেন, তার প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত নয়। শেষ পর্যন্ত তিনি ভোট থেকে সরেও দাঁড়াতে পারেন। পুঠিয়ার প্রার্থী রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মোখলেসুর রহমান বলেন, তিনি এখন বিএনপির কোনো পদেই নেই। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকবেন।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। রাজশাহীতে দুয়েকজন বিচ্ছিন্নভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এটা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। হয়তো কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবেন। এরপরও যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তাদের বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত