সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিশ্ব ইজতেমা শুরু কাল

অপপ্রচার চালালে ব্যবস্থা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩৭ এএম

টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে তাবলিগ জামাতের সর্ববৃহৎ সম্মেলন বিশ্ব ইজতেমা। প্রথমবারের মতো ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে চার দিনে, পৃথকভাবে পরিচালনা করবে বিবদমান দুই পক্ষ। এরমধ্যে ৫৪তম ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইজতেমাকে ঘিরে কোনো ধরনের অপপ্রচার চালালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।’ শুক্রবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমা শুরু হবে। শনিবার দুপুরের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এক পক্ষের (মাওলানা জোবায়ের) পরিচালনায় ইজতেমা। তারা ইজতেমা ময়দান বুঝিয়ে দেবেন দ্বিতীয় পক্ষের (সাদপন্থিদের) কাছে। তাদের পরিচালনায় ইজতেমা শুরু হবে রবিবার ভোরে। সোমবার আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ইজতেমা সমাপ্ত হবে।

গতকাল বুধবার ইজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা গেছে, পুরো ময়দানকে ৫০টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। ৬৪টি জেলার মুসল্লিরা এসব খিত্তায় অবস্থান নেবেন। বুধবার থেকেই মুসল্লিরা তুরাগতীরে আসতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন সংস্থার লোকজন মাঠ সমতল, মাইক ও বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ প্রায় শেষ। বিদেশিদের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, ইজতেমা ময়দানকে তাবলিগের মুরব্বিদের পরামর্শে সাজানো হয়। ময়দানে জেলাভিত্তিক মুসল্লিদের অবস্থান, রান্নার স্থান, টয়লেট, অজুখানা, গোসলখানা সুনির্দিষ্ট থাকে।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ইজতেমা নিয়ে অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ বা অন্য কোনো মাধ্যমে অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ও উসকানিমূলক প্রচার চালালে তাদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া ইজতেমার বয়ানে কিংবা প্রকাশ্যে কারও বিরুদ্ধে কোনো প্রকার বক্তব্য না রাখার জন্য আয়োজকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। বুধবার দুপুরে টঙ্গীতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে ইজতেমার সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে ফলো-আপ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘ইজতেমার দুই পক্ষকে তাদের ৬ ও ১০ দফা মেনে চলতে হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ইজতেমা সম্পন্ন করার জন্য উভয় পক্ষকে সহনশীল আচরণ করতে হবে।’ গাজীপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আবদুল্লাহ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সিটি মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম। সভায় আরও বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান, ঢাকা উত্তর জোনের ডিসি ট্রাফিক প্রবীর কুমার রায়, গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ, মাওলানা জুবায়েরপন্থি প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান, সাদপন্থি মাওলানা ওয়াসিফুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৭ সাল থেকে ঢাকার অদূরে তুরাগতীরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। মুসল্লিদের স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর তাবলিগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর প্রথমে স্থগিত ও পরে সরকারের মধ্যস্থতায় ১০টি শর্তে চার দিনে ইজতেমা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত