সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (সেকায়েপ) প্রকল্পের অতিরিক্ত শ্রেণি শিক্ষকরা (এসিটি) চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কয়েক দফায় আন্দোলনে নেমেও সফল হননি। প্রতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসের পরও চাকরি স্থায়ীকরণ হয়নি। নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী, গত ১১ দিন ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একটানা অবস্থান ও অনশন করছেন তারা। এতেও সুরাহা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের চিন্তাভাবনা করছেন শিক্ষকরা।
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শর্তানুযায়ী চাকরি স্থায়ী না করায় বিভিন্ন ধাপে আন্দোলনে নামেন এসিটি শিক্ষকরা। তাদের সংগঠন বাংলাদেশ এসিটি অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, সরকার তাদের চাকরি স্থায়ী করতে টালবাহানা করছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা জানান, দারিদ্র্যপীড়িত ও দুর্গম এলাকায় মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থী ঝরে পড়া কমাতে ২০১৫ সালে ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে নিয়োগ দেওয়া হয় ৫ হাজার ২০০ শিক্ষক। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে মডেল শিক্ষক হিসেবেই আখ্যা দেওয়া হয়েছিল তাদের।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, নিয়োগের সময় নিয়োগ বিধিতে প্রকল্প শেষে এসব শিক্ষকের এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) পদ্ধতিতে অন্তর্ভুক্তির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। অথচ প্রকল্প শেষের পর ১৪ মাস পেরোনোর পর এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। এসিটি অ্যাসোসিয়েশন জানায়, এই সময়ে বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের পড়ানো শিক্ষকদের বেশিরভাগেরই সরকারি চাকরির বয়সসীমা পার হয়ে গেছে। বেতন বন্ধ হওয়ায় অনেকেই শিক্ষাদানে আগ্রহ হারিয়েছেন। এ অবস্থায় নিয়োগ পাওয়া ৫ হাজার ২০০ শিক্ষকের অনেকেই অন্য চাকরিতে চলে গেছেন। বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক স্থায়ীকরণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে এসিটি অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরফান উল্লাহ বলেন, ‘যখন আমাদের নিয়োগ দেওয়া হয় তখন স্থায়ী করে এমপিওর আওতায় আনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তাই আমরা অন্য কোনো চাকরির জন্য চেষ্টা করিনি। আবার অনেকে অন্য চাকরি হলেও তাতে যোগ দেয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত ১১ দিন অবস্থান কর্মসূচি এবং অনশন করেও সরকারের কাছ থেকে তেমন আশ্বাস পাইনি। এখনো কর্মকর্তারা সেই আগের মতোই বলছেন, দ্রুত এমপিওভুক্ত করা হবে। কিন্তু কবে করবেন, কীভাবে করবেন তা বলছেন না। এভাবে আর কত দিন চলবে?’
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের সেকায়েপ শিক্ষক শাহনাজ আক্তার বলেন, ‘আজ তো আমাদের রাস্তায় থাকার কথা নয়। আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন আমাদের চাকরি স্থায়ী করুন।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, প্রকল্পের শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সব কার্যক্রম শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নয়। এর সঙ্গে অর্থ, জনপ্রশাসন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জড়িত। তাই সবার সঙ্গে সমন্বয় করে এসব শিক্ষকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সময় প্রয়োজন।
গত বছর এক সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী এসিটি শিক্ষকদের প্রশংসা করে দেশের সর্বত্রই এ ধরনের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে অন্য মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতায় বিষয়টি আটকে আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেকায়েপ শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এসব শিক্ষকরা আসলেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। অনেকেই আমাদের কাছে এসেছিলেন। তাদের অনশন ছেড়ে বাড়ি ফিরতে বলেছি। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
