মানুষের মধ্যে পুলিশি ভীতি দূর করে জনসম্পৃক্ত থেকে সেবা দিতে বাহিনীটির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। থানায় গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন আকাক্সিক্ষত সেবা পায় তা নিশ্চিতেরও আহ্বান জানান তারা। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গতকাল বুধবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের প্রতি এ আহ্বান জানান। এদিন বিকেলে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘পুলিশ আস্থার প্রতীক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ অর্জন ধরে রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশের আধুনিকায়নে সব কিছু করছেন। পুলিশকে প্রযুক্তিবান্ধব করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা মহানগর পুলিশ সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমন করেছে। এটা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। এখন সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ মাদক। প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স নীতিতে মাদক নির্মূলের কথা বলেছেন। সেই কাজ শুরু হয়েছে।’ এ সময় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেলের কাজ শেষ হলে রাজধানীর যানজট কমে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘থানা হবে মানুষের সেবার কেন্দ্র। একজন মানুষ নিরুপায় হয়েই থানায় যায়। হয়তো তার সব সমস্যার সমাধান নাও দিতে পারেন, কিন্তু কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনুন, কী করতে হবে বুঝিয়ে বলুন, তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করুন। থানায় এসে মানুষ যেন কাক্সিক্ষত সেবা পায়।’ তিনি বলেন, ‘ডিএমপি হচ্ছে পুলিশের আয়না। ডিএমপির অনেক ভালো কাজের জন্য পুলিশকে আজ মানুষ আপন করে নিয়েছে।’
স্বাগত বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গত এক বছরে বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকাবাসীর নিরাপত্তা দিতে গিয়ে গত এক বছরে ডিএমপির তিন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৮ সদস্য। এরপরও আমরা নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে বদ্ধপরিকর। চলতি বছর বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং আরও ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কাজ চলছে।
নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন দূতাবাস ও মিশনের কূটনৈতিক ছাড়াও বিভিন্ন কমিউনিটি নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাতে ফায়ার ওয়ার্কসের মাধ্যমে ডিএমপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষ হয়।
এর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ডিএমপি সদর দপ্তরের সামনে র্যালির উদ্বোধন আইজিপি। ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট (সোয়াত), সাইবার ক্রাইম ইউনিট, কে-নাইন ইউনিট (ডগ স্কোয়াড), কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটসহ সব ইউনিট র্যালিতে অংশ নেয়। র্যালিটি সদর দপ্তর থেকে বের হয়ে বেইলি রোড দিয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ১২টি থানা নিয়ে ডিএমপির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ডিএমপিতে ৫০টি থানাসহ ৩৬ হাজার পুলিশ সদস্য কর্মরত।
