নিউজিল্যান্ড ৩৪১/৭। বাংলাদেশ ৪৪.৫ ওভারে ২৬৪ রানে অল আউট। ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে স্বাগতিকদের সর্বোচ্চ ওই ৩৪১। সালটা ২০১৬। ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিয়েছিল ওপেনিংয়ে টম ল্যাথামের (১৩৭) দুর্ধর্ষ সেঞ্চুরি আর পরে কলিন মুনরোর ঝড়ো ৮১। সাকিব আল হাসান ৩ ও তাসকিন আহমেদ ২ উইকেট নিয়েছিলেন। ইনজুরিতে এই দুই বোলারের কেউ নেই।
রানের পাহাড়ে চাপা পড়া বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। চার পেসার ও এক স্পিনার মিলে প্রতিপক্ষকে রেখেছিলেন। সহজ জয়। নতুন সাজে সেজে ২০১৫ থেকে এই মাঠ ৯টি ওয়ানডের আয়োজন করেছে। এর মধ্যে ৮টি জিতেছে ঘরের দল। কেবল শেষ ম্যাচটাই হেরেছে ইংল্যান্ডের কাছে।
হ্যাগলি ওভালকে বলা হয় ‘স্বপ্নের মাঠ’। এখানে গতিময় মানসম্মত পেসারদের চোখ চকচক করতে বাধ্য। আবার ট্রু বাউন্স থাকে বলে ব্যাটসম্যানরা একটু সেট হয়ে গেলে রান আসে। একবার নিউজিল্যান্ডের কোচ মাইক হেসন বলেছিলেন, ‘এখানে বোলার-ব্যাটসম্যান সবার জন্য সমান সুযোগ থাকে।’
কিন্তু নেপিয়ারের ব্যাটিং উইকেটে ব্যাটসম্যানদের ভুলভাল খেলা প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে বাজেভাবে হারিয়েছে। প্রস্তুতির অভাবের কথা সবাই বলছেন। এবং তা সত্য। এ কদিনে একটু সামলে উঠতে পারলে ভালো। নইলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ হারের দুর্ভাগ্য আততায়ীর মতো অপেক্ষায়। অধিনায়ক মাশরাফী ব্যাটসম্যানদের ওপর ক্ষুব্ধ। বোলারদের ওপর পুরো সন্তুষ্ট নন। সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতি স্পষ্ট। তারপরও এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে? বাংলাদেশের ২০১৯ বিশ্বকাপ প্রস্তুতির প্রথম ধাপ এটা। আবারও বাজে কিছু ঘটলে প্রস্তুত না হয়েই সফর করার পরিণতি মাথা নিচু করে মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না কোনো।
তামিম ইকবাল বিপিএলে ১৪১ রানের অবিশ্বাস্য হার না মানা ইনিংস খেলে গেলেন। কিন্তু ওখানে শুরুতে কী বাজে শটই না খেললেন। পার্টনার লিটন দাসের মধ্যে বিশ্বাসের অনুপস্থিতি ছিল। সৌম্য নিজেকে সামলাতে জানেন না। মুশফিকুর রহিমের হেলমেটের আঘাতটা কাল হয়েছিল হয়তো। বহু যুদ্ধের পরীক্ষিত যোদ্ধা মাহমুদউল্লাহ ব্যর্থ। সাব্বিরকে বিতর্ক তুলে দলে নেওয়ার পরের ইনিংসটা অকাজের। ওখানে তার যা দায়িত্ব সেটা ভুলে বসেছিলেন। মেহেদী হাসান মিরাজকে কি দুষবেন? বোলার তো। ভাগ্যিস মোহাম্মদ মিঠুনের ৬২ আর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ৪১ কিছুটা লড়ার উপলক্ষ দিয়েছিল।
কিন্তু ট্রেন্ট বোল্ট, ম্যাট হেনরি, লকি ফার্গুসন, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, মিচেল স্যান্টনাররা সুইং-গতি-নিয়ন্ত্রণ-পরিকল্পনা-ম্যাচ বোঝায় পরিপক্ব। ওখানে বাংলাদেশি বোলাররা ওই পুঁজি নিয়েও তেড়েফুঁড়ে কিছু করতে ব্যর্থ। হয়তো কম রান নিয়ে কখনো। কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন ক্রিকেটবিশ্বে পরিকল্পকদের মধ্যে সেরাদের অন্যতম তখন সব কঠিন। কিন্তু সম্ভব নয়?
বাংলাদেশ তো কত অসম্ভব সম্ভব করে ফেলে। ভয় শুধু নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ১১ ম্যাচের প্রতিটিতে হারার দুঃস্মৃতি। ক্রিকেট মনস্তত্ত্বের খেলা। ওখানে বাংলাদেশ না পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু এই দলটা তো এখন যে কারও চোখে চোখ রেখে লড়ে। প্রথমটিতে হয়নি। এবার না হয় হয়ে যাক সব বিরুদ্ধতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে! এটা স্বপ্নময়। বাস্তবতা ভিন্ন। কিন্তু বাস্তবতা কখন স্বপ্নকে সত্যে রূপ দেয় আগে থেকে কে তা জানতে পারে?
