মার্কেন্টাইল ব্যাংকের প্রায় ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদসহ সাতজনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলার অভিযোগপত্র চূড়ান্ত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বৃহস্পতিবার কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়া হয় বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন। মামলার প্রধান আসামি হারুন চট্টগ্রামের মেসার্স আমানত স্টিল, এইচ স্টিল রি-রোলিং মিলস, রুবাইয়া ভেজিটেবলস অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক। অপর আসামিরা হলেন চট্টগ্রামের মেসার্স রহমান স্টিল করপোরেশনের মালিক তালুকদার আবদুর রহমান, মার্কেন্টাইল ব্যাংক মাদামবিবির হাট শাখার ব্যবস্থাপক ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট
মৃণাল পাল, সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক (অপারেশন) বর্তমানে কক্সবাজার শাখার ব্যবস্থাপক পরিতোষ কুমার ধর, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার সাবেক ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাবেদুল ইসলাম, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার মুহাম্মদ জহুরুল আলম এবং আগ্রাবাদ শাখার সাবেক প্রবেশনারি অফিসার বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখার ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাইফুল হাসান।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ব্যাংক দুটির মোট ২৪ কোটি ৭৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর মধ্যে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মাদামবিবির হাট শাখার গ্রাহক মেসার্স রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার গ্রাহক মেসার্স তালুকদার ট্রেডিং কোম্পানির মধ্যে লোকাল এলসির মাধ্যমে কোনো পণ্য আমদানি-রপ্তানি না হলেও ভুয়া রেকর্ডপত্র তৈরি করে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
একইভাবে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মাদামবিবির হাট শাখা মেসার্স এইচ স্টিল রি-রোলিং মিল্স এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার মেসার্স রহমান স্টিল করপোরেশন ও তালুকদার ট্রেডিং কোম্পানির মধ্যে দুটি লোকাল এলসি জাল করে। এর মাধ্যমে মোট ১০ কোটি ৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এছাড়া ভুয়া রেকর্ডপত্র তৈরির মাধ্যমে আসামি হারুণ অর রশিদ অবৈধভাবে ৯ কোটি ৭৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা বিক্রেতার হিসাবে পাঠান। ওই টাকা তুলে নিজ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের দায় পরিশোধে ব্যবহার করে আত্মসাৎ করেন। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ চৌধুরী সীতাকুণ্ড থানায় দায়ের হওয়া এই তিন মামলা তদন্ত করেন।
