আগামী ১১ মার্চ অনুষ্ঠেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সামনে রেখে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার বিভিন্ন দাবিতে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগীরা ছাড়া ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল সমমনা ছাত্রদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার চিন্তা-ভাবনা চলছে। সহযোগী ছাত্রসংগঠনের নেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানিয়েছেন।
ছাত্রনেতারা বলছেন, ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির জন্য তারা হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র স্থাপন, ডাকসু ও হল সংসদের ফি প্রদানকারী সব শিক্ষার্থীর ভোটের অধিকার নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবি কর্র্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেছেন। কিন্তু দাবি না মানায় তারা সম্মিলিতভাবে আন্দোলনের কথা ভাবছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা
ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা গত দুই দিন ধরে মধুর ক্যান্টিনে যাচ্ছি। কিন্তু এখনো হলে যেতে পারছি না। সব জায়গায় সহাবস্থান এখনো হয়নি। এ ছাড়াও আমাদের ৭ দফা দাবি পূরণ হয়নি। তার মধ্যে একটি হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র দেওয়া। এই দাবির সঙ্গে যেসব সংগঠনের সমর্থন রয়েছে, আমরা তাদের সঙ্গে এক হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের চিন্তা-ভাবনা করছি।’ছাত্রসংগঠনগুলোর সাধারণ দাবিগুলো হলো ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে নেওয়া, ডাকসু ও হল সংসদের ফি প্রদানকারী সব শিক্ষার্থীর ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা, শ্রেণিকক্ষে নির্বাচনী প্রচার ও প্রচারে জাতীয় নেতাদের অংশগ্রহণের ওপর আরোপিত বাধা বাতিল করা, ক্যাম্পাস ও হলে সব ছাত্রসংগঠনের সহাবস্থান ও স্বাধীন মতের পরিবেশ নিশ্চিত করা, ডাকসুর গঠনতন্ত্রে সভাপতি অর্থাৎ উপাচার্যের যে চরম ক্ষমতা দেওয়া আছে তা কমানো। স্থায়ী সহাবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর ভোটের তারিখ ঘোষণা দেওয়া।
এসব দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলেনের প্রশ্নে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্কসবাদী) ঢাবি শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা টিএসসির বিভিন্ন সংগঠন এবং পাহাড়িদের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গেও কথা বলব। যেসব দাবির সঙ্গে আমাদের একমত রয়েছে সে বিষয়ে একসঙ্গে আন্দোলনে যাওয়ার চিন্তা রয়েছে। তবে ছাত্রদলের সঙ্গে আমাদের এখনো কথা হয়নি।’
ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল ছাড়া সাধারণভাবে সমমনাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে দ্বিমত নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের দাবির সঙ্গে অনেকের মিল থাকতে পারে। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। তবে যারা স্বাধীনতাবিরোধী এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম করেছে তাদের সঙ্গে এক হয়ে আমরা আন্দোলনে যাব না। বিশেষ করে ছাত্রলীগ এবং ছাত্রদলের সঙ্গে। এর বাইরে যারা আসবে তাদের স্বাগত জানাব।’ কোটা সংস্কারের আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হলের ভেতর ভোটকেন্দ্র রেখে দিলে ছাত্রলীগ সেটা দখল করবে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে পারবে না। তাই হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র হোক। এই দাবি মানা না হলে অন্য যেসব ছাত্রসংগঠন আছে, তাদের সঙ্গে মিলে আমরা আন্দোলনে নামব; দাবি আদায়ে বাধ্য করব।’
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের অংশগ্রহণের বিষয়ে সার্বিক দেখভালের দায়িত্বে আছেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি ডাকসু নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। নির্বাচনী কাজে সাবেক ছাত্রনেতাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তারা নিয়মিত বৈঠক করে ছাত্রদল নেতাদের নানা নির্দেশনা দিচ্ছেন। ছাত্রদলও এখন নিয়মিত ক্যাম্পাসে যাচ্ছে। তারা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে যে দাবিগুলোর মধ্যে মিল রয়েছে সেগুলো নিয়ে অন্য ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে কথা বলার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ডাকসু নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র আন্দোলনের বিষয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রধান সমন্বয়ক সাইফুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডাকসু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ছাত্রলীগের বাইরে অন্যসব ছাত্রসংগঠন বিভিন্ন দাবি নিয়ে পৃথকভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে আন্দোলন-সংগ্রাম করলে সফলতা নাও আসতে পারে। এজন্য ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল সহযোগী ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের অন্যসব ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, তাদের ছাত্রসংগঠনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
