এই প্রতিবেদনটি যখন পড়ছেন তখন হয়তো জেনে গেছেন সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডের অনেক কিছুই। আজ ভোর ৪টায় শুরু হওয়ার কথা তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয়টি। হয়তো জেনে গেছেন টস জিতে কে কী করছে। তবে ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে লেখা এই প্রতিবেদনে জানতে পারবেন স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কতটা কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। সিরিজ বাঁচানোর এই ম্যাচটি হতে যাচ্ছে ক্রাইস্টচার্চের সিমিং কন্ডিশনে। হ্যাগলি ওভালে বাংলাদেশ ২০১৬ সালে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে হেরেছিল ৭৭ রানের বড় ব্যবধানে। স্বাগতিকদের ছুড়ে দেওয়া ৩৪২ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের ইনিংস থেমে গিয়েছিল ২৬৪ রানে। আজ সেই ম্যাচের পুনরাবৃত্তি না ঘটলেই হবে ইতিহাস। সেটি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিকদের হারানোর প্রথম স্বাদ গ্রহণের।নেপিয়ারেই স্বাগতিক পেসারদের তোপে বড্ড নড়বড়ে দেখা গেছে বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে। ব্ল্যাক ক্যাপসদের পেসারত্রয়ী ট্রেন্ট বোল্ট, ম্যাট হেনরি ও লকি ফার্গুসন সেই ম্যাচে শিকার করেছিলেন বাংলাদেশের ৭ উইকেট। তাদের বোলিং ছিল নিখুঁত। তবে তাদের কাজকে আরও সহজ করে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের বাজে শট সিলেকশন। বেশিরভাগকেই দেখা গেছে বড় শট খেলতে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন।
হ্যাগলি ওভালের উইকেটে আগে ব্যাট করা দলের ৩০০ রানের নিচের সংগ্রহ মোটেই নিরাপদ নয়, অন্তত সাম্প্রতিক অতীত তাই বলে। অর্থাৎ প্রথম ওয়ানডের মতোই যদি বাংলাদেশ আগে ব্যাটিং করে তবে তাদের লক্ষ্য হওয়া চাই ৩০০-এর বেশি। যদিও এটাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ নিজেদের কন্ডিশনের নিউজিল্যান্ড পেসাররা কতটা ভয়ংকর তা প্রথম ম্যাচেই প্রমাণিত। স্বাগতিকরা হয়তো উইনিং কম্বিনেশন ভাঙবে না। তবে দলের মধ্যে ফিসফাস আছে দ্বিতীয় ম্যাচেই সিরিজ নিশ্চিত করে তারা একাদশে ফেরাতে যাচ্ছে বর্ষীয়ান পেসার টিম সাউদিকে। লেগ স্পিনার টড প্যাটেলের জায়গায় যদি সাউদি আসেন তবে তো কাজটা আরও কঠিন হয়ে পড়ার কথা তামিম ইকবালদের।
আগের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের জয়টা ছিল ৮ উইকেটে। ইনজুরি থেকে ফেরা ওপেনার মার্টিন গাপটিল ১৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করে কেবল দলকে জেতাননি, হেনরি নিকোলস ও রস টেইলরের সঙ্গে বড় জুটি গড়ে সফরকারীদের যেন দেখাতে চেয়েছেন কীভাবে এই কন্ডিশনে ধাতস্থ হয়ে খেলা যায়। ২৩৩ রানের লক্ষ্য ছুতে ৪৫ ওভার পর্যন্ত খেলতে হয়েছে স্বাগতিকদের। এটা হয়েছে কেবল মাশরাফী, মোস্তাফিজ ও মিরাজের মাপা বোলিংয়ের কারণে। তবে প্রথম ম্যাচে সাকিব আল হাসানের শূন্যতা বড্ড টের পাওয়া গেছে। সেটা ব্যাটে হোক কিংবা বলে। ক্রাইস্টচার্চে অবশ্য বোলিং নিয়ে অন্যভাবে ভাবনার সুযোগ বড্ড কম বাংলাদেশের সামনে। যদিও তাদের আছে রুবেল হোসেনের মতো অভিজ্ঞ পেসার। কিন্তু গত ম্যাচে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ স্কোরার মোহাম্মদ মিঠুনকে দারুণ সংগত দেওয়া বোলিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনকে বাদ দেওয়াটা হবে সাহসী সিদ্ধান্ত। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির শুরুতেই আজ বাংলাদেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে। সেই চ্যালেঞ্জটা উতরে যেতে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের রানে ফেরা ভীষণ জরুরি। নেপিয়ারের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে বাজে শট নির্বাচনের মাশুল দিতে হয়েছে তাদের। আর হ্যাগলি ওভালেই বাউন্সি উইকেটে কতটা কী করতে পারবেন তারা? এ প্রশ্নটা থাকছেই।
দলের ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলটও ব্যাটসম্যানদের আরও একটু ধৈর্যশীল রূপে দেখার অপেক্ষায়, ‘আমার মনে হয় টপ অর্ডারকে ক্লিক করতে হলে গাপটিলের মতো ব্যাটিং করতে হবে। একটু থিতু হতে পারলে ক্রাইস্টচার্চে টপ অর্ডারদের বড় ইনিংস খেলার সুযোগ থাকছে।’ ক্রাইস্টচার্চে পৌঁছে গতকাল অনুশীলন সেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ক্রিকেটারদের খেলায় ছিল দীর্ঘ ভ্রমণ ক্লান্তির ছাপ। সেটা নিশ্চয়ই এই ম্যাচে সবাই কাটিয়ে উঠবে এমনটাই প্রত্যাশা পাইলটের, ‘প্রথম ম্যাচ হারের অন্যতম কারণ ছিল আমাদের অভিজ্ঞ চার ক্রিকেটার নিজেদের খেলাটা খেলতে পারেনি দীর্ঘ ভ্রমণ ক্লান্তির কারণে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে ক্লান্তি দূর করার যথেষ্ট সময় ক্রিকেটাররা পেয়েছেন। আশা করছি ডু অর ডাই ম্যাচটা জিতে ফিরতে পারব আমরা।’
আগের ম্যাচেই অনন্য এক রেকর্ড গড়েছিলেন মাশরাফী। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১০০ ওয়ানডেতে টস করতে নামেন বাংলাদেশ দলের কা-ারি। আজ ক্রাইস্টচার্চে দেশের পক্ষে দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ২০০তম ওয়ানডে খেলতে নামবেন মুশফিক। মাশরাফীর পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডের ডাবল সেঞ্চুরির ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখতে আজ হেসে উঠুক মুশফিকের ব্যাট, এটাই প্রত্যাশা। যদি সেই প্রত্যাশা পূরণ হয় তাহলে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ১১ ম্যাচ হারের পর জয়ের দেখা পাবে বাংলাদেশ।
