যারা হলিউডের ‘লর্ড অব দ্য রিংস’ বা ‘হবিট’ ট্রিলজি ভীষণ পছন্দ করেন তাদের জন্য সুখবর হয়ে এসেছিল ‘মরটাল ইঞ্জিন’। যেহেতু ‘লর্ড অব দ্য রিংস’ সিনেমার টিম এই মুভির কাজ করেছে তাই প্রত্যাশাও ছিল বেশ ভালো। কিন্তু প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি মুভিটি। ভবিষ্যতের এক পৃথিবী। মানবসভ্যতার চিহ্ন নেই কোনোখানে। শহর-বন্দর আর নজরে পড়ে না আগের মতো। তার জায়গায় আছে ছোট বড় সব ট্র্যাকশন সিটি। বিশাল বিশাল চাকার গাড়ির ওপর বসানো আস্ত শহর। ষাট মিনিট যুদ্ধের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত পৃথিবীর ওপর দিয়ে ছুটে চলে তারা। ধ্বংস হয়ে যাওয়া সভ্যতার উচ্ছিষ্ট সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। ট্র্যাকশন সিটিগুলোর মাঝে সবচেয়ে শক্তিশালী লন্ডন। অন্য ট্র্যাকশন সিটিগুলোকে লুট করার ক্ষমতা আছে তাদের। ভ্যালেন্টাইন নামক বিখ্যাত সায়েন্টিস্ট বাস করেন এই সিটিতেই। লন্ডনের বর্তমান ক্ষমতাধরকে সরিয়ে সে পুরো পৃথিবীতে রাজত্ব করতে চায়। বড় শহরগুলো ছোট বাচ্চা শহরগুলোকে খেয়ে ফেলে। আর এভাবেই লন্ডন শহরটি গিলে ফেলে ‘সালযাক’ নামের একটি ছোট শহরকে।
এরপর থেকেই শুরু হয় কাহিনী। মুভিটি ফিলিপ রিভের স্টিপপাংক ফ্যান্টাসি উপন্যাস মর্টাল ইঞ্জিনস কোয়ার্টেট থেকে নেওয়া। থিমটি ছিল ইতিহাসে মানুষের কুপ্রবৃত্তির রিপিটেশন। তার সঙ্গে একটা রিভেঞ্জ প্লট আর ভিলেনের তলে তলে শয়তানির প্ল্যান। অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার মুভির জন্য খারাপ রসদ না।মুভিটির ভিজুয়ালাইজেশন খুবই চমৎকার। হলিউড মুভির অনেক বড় একটা প্লাস পয়েন্ট হলো এর চোখধাঁধানো ভিএফএক্স। ভবিষ্যতের ধ্বংস হয়ে যাওয়া পৃথিবী, নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা ট্র্যাকশন সিটিগুলো আপনাকে মুগ্ধ করবে। মুভির প্রথমার্ধ বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল। কিন্তু শেষটুকু চোখের পলকে চলে গেল। অভিনেতারা স্ব স্ব চরিত্রে সাবলীল।
বিশেষ করে হেস্টার চরিত্রে নবাগত অভিনেত্রীর অভিনয় বেশ ভালো লেগেছে। গল্পে টুকটাক টুইস্টও ছিল। কিন্তু সেসব স্টোরিটেলিংকে কভার দিতে পারেনি। সত্যি বলতে একই ধরনের থিমের ওপর ভিত্তি করে হলিউডে বেশ কিছু মুভি আছে। সেটা বিবেচনায় এই মুভিটির আরও ভালো করার জায়গা ছিল। মুভিটির আরেকটি দিক হলো, এতে মোটামুটি অনেকগুলো ডাইমেনশন টাচ করার চেষ্টা করা হয়েছে। যেমন- অ্যাফেকশন, রিভেঞ্জ, লাভ, রেভুলেশন ও এনাইলেশন।
তবে মুভিটি একটি ভালো মেসেজ দিয়েছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার মানবজাতির ধ্বংস বৈ মঙ্গল আনবে না। যদি কখনো মুভিটির সিক্যুয়াল আসে, তাহলে আবার ভালো কিছুর প্রত্যাশা থাকল।
