ঋণখেলাপিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই)। গতকাল রবিবার এফবিসিসিআই আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সংগঠনটির সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এ কথা বলেন। আসন্ন জাতীয় বাজেট উপলক্ষে অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের সভাপতিদের সঙ্গে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ব্যাংকের সুদহার অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সবার কাছে বিষয়টি এফবিসিসিআই উপস্থাপন করছে। এটা কোনোভাবেই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে যথেষ্ট নয়। যে কারণে বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ‘দুই ধরনের খেলাপি ঋণ আছে। যারা অবৈধ পন্থায় ব্যাংকের টাকা লুটপাট করেছেন, আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তবে যারা ব্যবসা করতে গিয়ে লোকসান করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে শিথিল করা যেতে পারে।’
৫০০ কোটি টাকার ওপর ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সমালোচনা করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।
তিনি বলেন, ‘ঋণখেলাপিদের জন্য যদি ৫০০ কোটি টাকার ওপর আলাদা স্ল্যাপ তৈরি করা হয়, তাদের জন্য যদি ২০ বছরের জন্য ঋণ রিশিডিউল করা হয়, তাহলে ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য কেন করা হচ্ছে না? সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পরিষ্কারভাবে এ বিষয়গুলো তুলে ধরেছি।’
তিনি বলেন, ‘শুধু বিজিএমইএ নয়, সব খাত এগিয়ে আসবে। শুধু আরএমজি বা টেক্সটাইল সেক্টর রপ্তানির খাত দখল করে থাকুক আমরা তা চাই না। আমরা চাই ফুটওয়্যার, প্রসেস ফুড, আইটি খাত এগিয়ে আসুক।’
শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ‘ভ্যাটের যে একটি অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল তার জন্য আন্দোলন করেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকার কারণে এটাকে জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করেছি। সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি নজরে নিয়েছেন এবং তার দূরদৃষ্টির কারণেই ভ্যাট আইন স্থগিত রয়েছে।’
সব ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ থাকবে না জানান তিনি। বলেন, ‘আমরা গত সপ্তাহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসেছি। তিনি একটি বিষয় মেনে নিয়েছেন ভ্যাট সবক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ থাকবে না। এটির বিভিন্ন হার হবে।’
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘২৮ হাজার টাকা প্যাকেজ ভ্যাট। আমার কাছে রিপোর্ট আছে অনেকে এই ২৮ হাজার টাকা না দিয়ে, অসাধু ইন্সপেক্টরদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। দয়া করে এগুলো বন্ধ করুন। যেখানে অন্যায় করা হবে, সেখানে এফবিসিসিআই আপনাদের পাশে থাকবে। তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব, প্রতিবাদ করব।’
এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের পরিচালনায় বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ নেতারা মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।
