নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষক নিয়োগে জবি প্রশাসনের ‘অনীহা’

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:০০ এএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভালো ফল করে উত্তীর্ণ হলেও শিক্ষার্থীদের নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষের অনীহা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৪ বছরে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছে অন্তত আটটি ব্যাচ। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫৪ শিক্ষকের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী আছেন মাত্র ৩২ জন। ২০১৪ সাল থেকে চার বছরে ২৮ শিক্ষার্থী বিশেষ কৃতিত্বের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পেয়েছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র দুজন শিক্ষক হয়েছেন। পদকপ্রাপ্তদের বেশ কয়েকজনের অভিযোগ, বিশেষ একটি অঞ্চল বা বিশেষ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী না হওয়ায় তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত এক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার যাবতীয় যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ইচ্ছা ছিল জবিতে থেকে যাব। কিন্তু এখন আর এখানে থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। একজন ছাত্র যদি অনুষদের সর্বোচ্চ রেজাল্ট করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে না পারে, তবে এর চেয়ে কষ্ট আর কী হতে পারে।’

বর্তমান উপাচার্য ড. মীজানুর রহমানের সময়ে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে চার শতাধিক শিক্ষকের মধ্যে জবির সাবেক শিক্ষার্থী মাত্র ২৯ জন, যা মোট নিয়োগের ৫ শতাংশেরও কম মাত্র। এদের মধ্যে উদ্ভিদবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, অণুজীববিজ্ঞান, আইন, ইসলামিক স্টাডিজ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, দর্শন, হিসাববিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞান বিভাগে একজন করে; মার্কেটিং, ফাইন্যান্স, অর্থনীতি ও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে দুজন করে; সমাজবিজ্ঞান ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগে তিনজন করে এবং গণিত বিভাগে পাঁচ জন রয়েছেন। এছাড়া প্রাণিবিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশ, পরিসংখ্যান, সমাজকর্ম, লোক প্রশাসন, ইসলামের  ইতিহাস, বাংলা ও ইতিহাস বিভাগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ শিক্ষক হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আরজুমান্দ আরা বানু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা শিক্ষক নিয়োগে যে রিকোয়ারমেন্ট চাই, রিকোয়ারমেন্ট আমাদের ছাত্ররা পূরণ করতে পারে না।’

ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যে বয়স তাতে এখন থেকে সব শিক্ষক নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরই পাওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে শতভাগ নিয়োগ যেন শিক্ষার্থীরা পায় তা বিবেচনা করতে হবে।’

জবির অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া। সেখানে জবিতে কেন ব্যতিক্রম হবে। আমাদের পক্ষ থেকে জোর দাবি, যেন শতভাগ নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পায়।’

শিক্ষক নিয়োগে অনীহার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য মীজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় নতুন। আমরা এখানকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া শুরু করেছি। ভবিষ্যতে বাড়বে। এটা নির্ভর করে শিক্ষকদের মানের ওপর। এখন ধীরে ধীরে আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মান বাড়ছে। ভবিষ্যতে এটা আরও বাড়বে। তখন বেশি করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত