মিয়ানমারের সেনাপ্রধান

রোহিঙ্গা নির্যাতনে সেনাবাহিনী নয় কিছু সদস্য জড়িত

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:০৬ এএম

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনে দেশটির সেনাবাহিনী জড়িতের কোনো প্রমাণ নেই বলে দাবি করেছেন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। তবে সামরিক বাহিনীর কিছু সদস্য এ ধরনের কাজে জড়িত থাকতে পারে বলে স্বীকার করেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার জাপানি দৈনিক পত্রিকা আশাহি শিম্বুনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। গত শুক্রবার পত্রিকাটিতে সাক্ষাৎকারটি ছাপা হয়।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে শুরু হওয়া বর্বর নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আগে থেকে অবস্থান করছেন ৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। তবে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বিষয়টি সবসময়ই অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সরকার ও সেনাবাহিনী। জাপান সফররত হ্লাইং বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সংখ্যক সদস্যের এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা নিপীড়নে জড়িত। সুনির্দিষ্ট প্রমাণহীন সমালোচনা একটি জাতির মর্যাদা ক্ষুণের শামিল।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীরা যা মন চায় বলেছে৷’ ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর সামরিক বাহিনীর অভিযানের কারণ জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা করে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা৷ তাদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যেই অভিযান চালানো হয়েছিল৷ নিপীড়ন করা হয়নি৷’

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারকে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। মিয়ানমার বরাবরই বলে আসছে, এ ধরনের বিচারে অধিকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নেই। আশাহি শিম্বুনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হ্লাইং সেই দাবি পুনরুচ্চারণ করে বলেন, ‘মিয়ানমারের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী কোনো নির্দেশনা গ্রহণ করব না আমরা।’

এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, মিন অং হ্লাইংয়ের এর ওই সাক্ষাৎকার তার নজরে আসেনি। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছর জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের সমঝোতা চুক্তিতে দেশটি স্বীকার করেছে যে সহিংসতা হচ্ছে, মানুষ পালাচ্ছে এবং তাদের প্রত্যাবাসিত হওয়ার অধিকার আছে।

২০১৮ সালের আগস্টে রাখাইনে মানবাধিকার হরণের ওপর জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর পরিচালিত অভিযানকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞ’ হিসেবে উল্লেখ করে জাতিসংঘ। গণহত্যায় জড়িত থাকায় মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ ৬ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার বিচার দাবি করা হয় সেই তদন্ত প্রতিবেদনে। ওই অনুসন্ধানে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের আলামত মিললেও গত বছর মিন অং হ্লাইং এ সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ নাকচ করে দেন।

২০১৮ সালের মার্চে প্রকাশিত ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘর ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হওয়া রোহিঙ্গাদের রাখাইনে বৌদ্ধ মডেল গ্রাম গড়ে তুলছে মিয়ানমার। একই বছর ডিসেম্বরে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানী খবরে সেই খবরের অগ্রগতি জানা যায়। রয়টার্স আরও জানায়, মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ফেইসবুকে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার কথা বলার ঘটনা বিরল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত