সংস্কার ইস্যুতে কোন পথে হাঁটবে জামায়াত?

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:২৬ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সংস্কার এবং দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা জন্য ক্ষমা না চাওয়ায় শুক্রবার পদত্যাগ করেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। দল থেকে বরখাস্ত করা হয় আরেক কেন্দ্রীয় নেতাকেও।

এরপর থেকে জামায়াতের রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমগুলো আগ্রহ নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ প্রকাশ করছে।

সংস্কারের জোর দাবি ওঠার এই চাপ জামায়াত কীভাবে মোকাবেলা করতে পারে, সেটা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।

ব্যারিস্টার রাজ্জাকের পদত্যাগ কী জামায়াতের ভেতরের দ্বন্দ্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এমন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, দ্বন্দ্ব বেড়েছে কি-না সেটি বুঝতে আরও সময় লাগবে। তবে ২০০১ সাল থেকে পারস্পরিক ভিন্নমতগুলো এখন অনেক বেশি খোলামেলা হয়ে দাঁড়ালো।

তিনি বলেন, “২০০১ সালের পর থেকে জামায়াতের ভেতরে সংস্কার এবং ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে যখন কথা হচ্ছিল, তখন সেটি বাইরে বলার মতো লোক ছিল না।”

“আবদুর রাজ্জাক বা মুজিবুর রহমান যা বলছেন তাতে তাদের প্রশ্ন করা যাচ্ছে। তারা এই সংস্কারের বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারছেন, যা দলটিতে আগে ছিল না। এখন কর্মী সমর্থকরা একটি ব্যাখ্যা পাচ্ছেন”এমনটাই মনে করছেন অধ্যাপক রিয়াজ।

তিনি বলেন, “সংস্কারের প্রস্তাব জামায়াত গ্রহণ করতে পারে বা তারা হয়তো কিছুই নেবে না। তা না হলে রাজনীতি থেকে সরে আসা- এমন অনেক বিকল্প আছে।”

আলী রিয়াজ মনে করেন না যে, আবদুর রাজ্জাক বা অন্যরা যে সংস্কারের কথা বলছে, সেটি নেতৃত্বে যারা আছে তারা গ্রহণ করবে।

মিসর ও তিউনিসিয়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তিউনিসিয়ায় আদর্শিক সংস্কার হয়েছে। আবার রাজনীতি থেকে সরে এসে সামাজিক কাজে জড়িত হয়েছিল মুসলিম ব্রাদারহুড। তারা এখনো করেছে। হিজবুল্লাহ ও হামাস এটি করেছে।

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “জামায়াতের বিষয়ে প্রশ্ন হলো- ৭১ এর বিষয়ে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ই কেবল নয়, সংস্কারের বিষয়টা তাদের আদর্শিক অবস্থানের পরিবর্তন।”

তিনি বলেন, “জামায়াত নেতারা সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিলে সেটি কোন সংস্কার। তাহলে মওদুদীর যে পথ তা থেকে সরে আসতে হবে তাদের। সেটি করবেন কিনা - এসব আলোচনা আগেই হওয়া উচিত ছিল। বহু ইসলামপন্থী দল এটি করেছে কিন্তু জামায়াত সেটি আগে করেনি।”

অধ্যাপক রিয়াজ বলেন, শুধু সাংগঠনিক সংস্কারে জামায়াত গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে মনে হয় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত