একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে নিজের কোনো ভূমিকা ছিল না দাবি করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে তার অবসান চান তিনি। গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনেতিক কার্যালয়ে সম্পাদকম-লীর রুদ্ধদ্বার এক সভায় সহকর্মীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। সভায় উপস্থিত একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনের মনোনয়ন নিয়ে আমার কোনো ভূমিকা ছিল না। আমি জানি, অনেকের ধারণা, দলীয় মনোনয়ন দেওয়া-নেওয়ায় আমার ভূমিকা ছিল। এ নিয়ে দলের অনেক নেতাকর্মী আমার ওপর অসন্তুষ্ট, ক্ষুব্ধ। কিন্তু আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, মনোনয়ন দেওয়া নেওয়া এবং কাউকে বাদ দেওয়া এসব নিয়ে আমার কোনো ভূমিকাই ছিল না। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার দায়িত্ব কতটুকু এটা আপনারা সবাই অবগত।
ওই নেতারা জানান, বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার একপর্যায়ে হঠাৎ করেই ওবায়দুল কাদের মনোনয়ন নিয়ে এসব মন্তব্য করেন। বৈঠকে এবার মনোনয়নবঞ্চিত দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম উপস্থিত ছিলেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি দশম সংসদের সদস্য আওয়ামী লীগের এই চার কেন্দ্রীয় নেতা। বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা-সমালোচনা ছিল। এ ঘটনা যখন সবাই ভুলতে বসেছে ঠিক তখন ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্য মনোনয়নবঞ্চিতসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সম্পাদকম-লীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক কেন হঠাৎ মনোনয়নের প্রসঙ্গ টেনে দুঃখ প্রকাশ করলেন জানি না। আরেক সদস্য প্রশ্ন রেখে বলেন, এর কি কোনো প্রয়োজন ছিল?
বৈঠকে উপস্থিত সম্পাদকম-লীর দুই সদস্য বলেন, সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, আমি জানি মনোনয়ন নিয়ে অনেকেই আমার ওপর ক্ষুব্ধ। অনেকের ধারণা আমি কাউকে বাদ দিয়েছি, কাউকে মনোনয়ন নিয়ে দিয়েছি। এ ধারণা যদি কারও থেকে থাকেÑ তা ভুল বোঝাবুঝি ছাড়া কিছুই নয়। আমি এ ভুল বোঝাবুঝির অবসান চাই। আমাকে সবাই ক্ষমা করবেন।
ওবায়দুল কাদের এ সময় জানান, আগামী অক্টোবরের মধ্যে দলের জাতীয় সম্মেলন হবে। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের ব্যাপারে আগ্রহী। সবাইকে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। অবশ্য আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময় অক্টোবরের আগেই দলের জাতীয় সম্মেলন হতে পারে।
বৈঠকে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আমি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে থাকি বা বিদায় নিই, আমি শেখ হাসিনার নির্দেশমতো দলের যেকোনো প্রয়োজনে কাজ করব। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে সংগঠিত করতে কাজ করে যাই।
