কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার দক্ষিণাঞ্চলীয় পিংলান এলাকায় গতকাল সোমবার জঙ্গিদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর চার সদস্য নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পুলওয়ামায় আধা সামরিক বাহিনীর (সিআরপিএফ) গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলার উত্তাপ না কমতেই এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
কাশ্মীরে চতুর্থ দিনের মতো চলা কারফিউর মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার গতকাল সোমবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, জঙ্গিদের গুলিতে নিহত সেনাদের মধ্য একজন মেজর রয়েছেন। গোপন খবরের ভিত্তিতে পিংলান এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় ‘জঙ্গিরা’ ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। বাহিনীর পাল্টা আক্রমণে দুই জঙ্গিসহ তাদের আশ্রয়দাতাও নিহত হয়েছে। অভিযানে দুই পক্ষের মোট নিহতের সংখ্যা ৭। পুলওয়ামায় সম্প্রতি আত্মঘাতী হামলা চালানো আদিল দারের সঙ্গে এ হামলাকারীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। কর্নেল রাকেশ কালিয়া এএফপিকে বলেন, ‘জঙ্গিদের বিরুদ্ধে এখনো অভিযান চলছে। পুরো এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। নিহত জঙ্গিদের মধ্যে একজন বৃহস্পতিবারের হামলার মূল পরিকল্পনাকারী কামরান।’ তবে এখন পর্যন্ত সর্বশেষ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি কোনো পক্ষ। বৃহস্পতিবারের আরডিএক্স বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি হামলার পর গোটা কাশ্মীরে ব্যাপক সেনা মোতায়েন ও তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট মরিসিও মাক্রির সঙ্গে এক বৈঠকের পর বলেছেন, ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আর কথা বলার সময় নেই। এখন তাদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।’ গতকাল সোমবারও ভারতের রাজধানী দিল্লির অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল বৃহস্পতিবারের হামলার প্রতিবাদে।
বৃহস্পতিবারের ঘটনায় ভারতের ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স’-এর গাড়ি বহরের ৭০টি গাড়ির মধ্যে একটি বাস ধ্বংস হয়। এতে প্রাণ হারায় বাহিনীর অন্তত ৪৪ সদস্য। পরে ওই হামলার দায় স্বীকার করে দেওয়া বিবৃতিতে জঙ্গিগোষ্ঠী জয়েশ-ই-মোহাম্মদ জানায়, তাদের হয়ে পুলওয়ামারই বাসিন্দা আদিল আহমেদ দার ওই হামলা চালিয়েছে।
আদিলের বাবা গুলাম হোসেন ছেলের মৃত্যু এবং কাশ্মীরের এই পরিস্থিতির জন্য রাজনীতিকদের দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ওদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত ছিল। যুবকদের সন্ত্রাসবাদের দিকে ওনারাই ঠেলে দিচ্ছেন। আর সাধারণ মানুষের ছেলেরা মরছে, তা জওয়ানদের পরিবারই হোক বা আমাদের।’
১৯৪৭ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকেই ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে হিমালয় অঞ্চলের দাবি নিয়ে সংঘাত চলছে। এ নিয়ে দুবার দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধ হয়েছে।
