নারায়ণগঞ্জ সিটির ১৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ নলুয়া জামে মসজিদের কমিটি ও আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বিরোধের জেরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। গত রবিবার রাতের ওই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি করা দুই মামলায় ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কবির হোসাইন ও সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নাসহ ২২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আহমেদের আদালতে উভয়পক্ষ আপসনামা উপস্থাপন করলে তাদের জামিন দেওয়া হয়।
সদর মডেল থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দক্ষিণ নলুয়া জামে মসজিদের কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিলর কবির এবং সাবেক কাউন্সিলর ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মুন্নার মধ্যে বিরোধ চলছিল। মুন্না ছয় বছর ধরে স্বঘোষিত সভাপতি হয়ে মসজিদের সব কাজকর্ম নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার কাছে মুসল্লিরা একাধিকবার মসজিদের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলেও তিনি তা দেননি।
এ অবস্থায় কবির নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি করে মসজিদের সব আয়-ব্যয় ব্যাংকের মাধ্যমে করার জন্য আহ্বান জানান। এ নিয়ে রবিবার এশার নামাজের পর উভয়পক্ষ মসজিদে বৈঠকে বসে। সেখানে মুন্নার কাছে আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে তার লোকজন কবিরের ভাগ্নে টিটুকে মারধর করে মসজিদ থেকে বের করে দেয়। এর জের ধরে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় কবির ও মুন্নার পক্ষে পাল্টাপাল্টি মামলা করা হয়েছে। কবিরের পক্ষে করা মামলায় মুন্নার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে আরও তিনজনকে আসামি করা হয়। মুন্নার করা মামলায় কাউন্সিলর কবিরসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গতকাল ভোরে পুলিশ দুই মামলার মোট ২২ আসামিকে নিতাইগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। বিকেলে তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে উপস্থাপন করে পুলিশ। আদালতে দুপক্ষ আপসনামা দাখিল করলে সবাইকে জামিন দেন বিচারক।
