রাজধানীর চার শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করাতে ‘কঠোর অভিযানে’ নামছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। গত বৃহস্পতিবার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর অনেকটাই যেন নড়েচড়ে বসেছে সরকারি এই সংস্থাটি। অভিযান শুরুর আগে অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ে হাসপাতালগুলোর পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। আগামীকাল বুধবার সকালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল সোমবার রাতে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঢাকা শহরের হাসপাতালগুলোর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করতে হাসপাতাল মালিক ও পরিচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। সভায় উপস্থিত থাকতে তাদের চিঠি দিয়ে আহ্বান জানানো হবে। বৈঠকে আমাদের ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহম্মেদ ও পরিচালক (অপারেশন) মেজর এ কে এম শাকিল দেওয়ানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত বছরের অক্টোবরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণের মহড়া হওয়ায় সেখানে গত বৃহস্পতিবারের অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানি হয়নি।’
অগ্নিঝুঁকি কমাতে ২০১৭ সালের প্রথমদিকে ঢাকাকে চারটি অঞ্চলে ভাগ করে সব ধরনের স্থাপনা পরিদর্শনের উদ্যোগ নেয় ফায়ার সার্ভিস। তার অংশ হিসেবে ওই সময় ঢাকার ৪৩৩টি হাসপাতালে জরিপ করা হয়। জরিপ শেষে ফায়ার সার্ভিস ঝুঁকিপূর্ণ হাসপাতালের তালিকায় ঢাকা শহরের ২৪৮টি হাসপাতালের নাম প্রকাশ করে। এর মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে ১৭৪টি হাসপাতাল। তখন এসব হাসপাতালকে কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়। তবে বেশির ভাগ হাসপাতাল সেসব নির্দেশনা মানছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে এসব হাসপাতাল।
ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এর আগে যেসব হাসপাতাল পরিদর্শন করে অগ্নিনির্বাপণে করণীয় বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল তাদের সেই অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হবে বুধবারের বৈঠকে। আর তারা যদি ব্যবস্থা না নেয় তবে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। অনিয়ম পাওয়া গেলে নিয়মিত মামলাও করা হবে। তবে বৈঠকে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষের কোনো কথা থাকলে তাও শোনা হবে। যদি কেউ বলে আমার হাসপাতাল সার্ভে করা হয়নি, তাহলে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সার্ভে টিম পাঠানো হবে। যেসব হাসপাতালে এখনো সার্ভে হয়নি সেগুলোতে পর্যায়ক্রমে সার্ভে, মহড়া ও গণসংযোগ করা হবে।’
