মহাকাশে বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে চীন

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৩৭ পিএম

নক্ষত্র সমান দূরত্বে সম্প্রসারিত হচ্ছে চীনের মহাকাশ যাত্রা। চাঁদের উল্টোপাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর পর দেশটি এখন মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির সুপারপাওয়ার হিসেবে বিশ্বে অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ। মহাকাশ গবেষণায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে চীন। এ খাতে দেশটির বার্ষিক বরাদ্দ আট বিলিয়ন ডলার। এ খাতে অবস্থান জোরালো করে অর্থনৈতিক, সামরিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে যাওয়ার মিশনে নেমেছে দেশটি।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ব্লুমবার্গ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহাকাশে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলতে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে চীন। দেশটির পশ্চিমাংশের শহর চংকিংয়ে একটি পরীক্ষাকেন্দ্র নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বায়ুম-লের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে তারা এই কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবে। স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার হলো ভূপৃষ্ঠের ১৮ কিলোমিটার থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উচ্চতা।

২০৩০ সালের মধ্যে চীন মহাকাশে স্থাপন করা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এক মেগাওয়াট বা তারও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত দৈনিক ‘সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’। চীনের ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ভাইস অ্যাডমিনিস্ট্রেটর উয়ু আনহুয়া বলেছেন, তারা চাঁদকেন্দ্রিক আরও চারটি কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছেন। এর মধ্যে দুটি হলো চাঁদের দক্ষিণ পাশে অবতরণ করা। চাঁদে একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও নিয়েছে সংস্থাটি, যা এ দশকের মধ্যেই শেষ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইলন মাস্কস স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস করপোরেশন, জেফ বেজুসের ব্লু অরিজিন, রিচার্ড ব্রানসনের ভার্জিন গালাক্টিকের মতো বেসরকারি পর্যায়ে চীনেও মহাকাশ সেন্টার গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। সে জন্য রকেট বিজ্ঞানীদের বিভিন্নভাবে অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া জিপিএস সিস্টেমে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা বাদ দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চীন ৯ বিলিয়ন ডলার খরচ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত