শেয়ার কারসাজি

১৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৪৫ এএম

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৯ কোম্পানির শেয়ার কারসাজির দায়ে ১৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ২ কোটি ১৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গতকাল মঙ্গলবার বিএসইসির নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অপরাধে ২০ ব্যক্তিকে সতর্ক করা হয়েছে।

কারসাজিতে বিনিয়োগকারী ছাড়াও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তারাও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিএসইসির তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০১৭ সালের মে থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মুন্নু স্ট্যাফলার্স, মুন্নু সিরামিক, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, বিডি অটোকার, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ ও ইস্টার্ন ল্যুব্রিকেন্টস কোম্পানির শেয়ার নিয়ে কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ হাউস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা কারসাজির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউসটির ছত্রচ্ছায়ায় কারসাজির মাধ্যমে দেড় বছরে এসব কোম্পানির কোনো কোনো শেয়ারের দর ১০ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

তালিকাভুক্ত সাত কোম্পানির শেয়ার লেনদেন ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সহায়তার মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গ হওয়ায় কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে ২৫ লাখ টাকা ও এভিপি মো. সাইফুল ইসলামকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বিএসইসি। এ ছাড়া বিনিয়োগকারী আলী মনসুরকে ১০ লাখ টাকা, আবদুল হালিমকে ২৫ লাখ টাকা, মুকুল কুমার সাহাকে ১ লাখ টাকা, লিপিকা সাহাকে ২ লাখ টাকা, পদ্মা গ্লাস লিমিটেডকে ৫ লাখ টাকা, রহমত মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজকে ২ লাখ টাকা এবং আবদুল কাউয়ুম, মরিয়ম নেছা ও মেসার্স কাউয়ুম অ্যান্ড সন্সকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ ছাড়া সাত কোম্পানির শেয়ারে কারসাজির ঘটনায় ইয়াকুত জাহান ও পদ্মা স্ক্যানস অ্যান্ড কালার্স লিমিটেড ইউনিট-২-কে সতর্ক করা হয়েছে। আর সীমার অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ প্রদান ও বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবের সঠিক তথ্য প্রদান না করায় কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজকেও সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

কারসাজির মাধ্যমে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকায় কাজী মো. শাহাদাত হোসেনকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বিএসইসি। এ ছাড়া সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে নিষেধাজ্ঞাকালীন পপুলার ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে লেনদেন ও মুন্নু সিরামিকের শেয়ারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে জড়িত থাকার দায়ে পপুলার ইন্স্যুরেন্সের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা হেলাল কবির ও তার স্ত্রী ফউজিয়া ইয়াসমিনকে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে কমিশন। এ ছাড়া হাফেজা খাতুন, মবিউর রহমান, মেসার্স অহনা কনস্ট্রাকশন, ইমাদ উদ্দিন আহমেদ, তাইজুদ্দিন আহমেদ ও সৈয়দ মো. আকবরকে সতর্ক করা হয়েছে।

তালিকাভুক্ত কোম্পানির হিসাব বছর শেষ হওয়ার দুই মাস আগে থেকে পরিচালনা পর্ষদ কর্র্তৃক বার্ষিক প্রতিবেদন চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পর্যন্ত সময়ে উদ্যোক্তা পরিচালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার লেনদেন নিষিদ্ধ। কিন্তু সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ বিধিমালা ভঙ্গ করে স্টাইল ক্রাফট লিমিটেডের পরিচালক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের স্বজনরা কোম্পানির শেয়ার লেনদেন করেছেন। এতে সিকিউরিটিজ আইন ভঙ্গ হওয়ায় কোম্পানিটির পরিচালক মাহীন রাব্বানী হক ও তার স্বজন তাহমিনা রাব্বানী, সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাক হোসেন, কর্মকর্তা সামসুল আলম এবং অসিম কুমার নাগ ও তার স্বজন সাবা নাগ, সোমা নাগকে সতর্ক করা হয়েছে। এ ছাড়া একই অভিযোগে কোম্পানি সচিব ইডমুন গুডা এবং অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধিতে জড়িত থাকার দায়ে মো. মাহামুদুজ্জামানকে ২ লাখ টাকা করে জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুন্নু জুট স্ট্যাফলার্সের শেয়ার কারসাজিতে জড়িত থাকার কারণে বিনিয়োগকারী সাইফ উল্লাহকে ১০ লাখ টাকা, আবদুস সেলিম ও জিয়াউল করিমকে ৫ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে বিএসইসি। এ ছাড়া নিষিদ্ধকালীন একই কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে বিধিমালা ভঙ্গ করলেও মুন্নু স্ট্যাফলার্সের ডেপুটি ম্যানেজার মো. আতাউর রহমানকেও সতর্ক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এদিকে কারসাজির মাধ্যমে দরবৃদ্ধি পাওয়া মুন্নু সিরামিক, মুন্নু স্ট্যাফলার্স ও স্টাইল ক্রাফট লিমিটেডের শেয়ার স্পট মার্কেট (নগদ টাকায় কেনাবেচার বাজার) থেকে মূল মার্কেটে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি। আজ থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে। রেনউইক যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানি (বিডি) লিমিটেডের শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করায় বিনিয়োগকারী এ এস শহীদুল হক, মিজানুর রহমান ও মো. ওহাব ভূঁইয়াকে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে সমন্বিত গ্রাহক হিসেবে সাড়ে ৯ কোটি টাকা ঘাটতি থাকায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সদস্য প্রতিষ্ঠান শ্যামল ইকুয়িটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের নিবন্ধন সনদ বাতিল ও স্থগিতকরণসংক্রান্ত ব্যবস্থা নিতে বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। গত ২৩ জানুয়ারি লিগেসি ফুটওয়্যার ও অটোকারস লিমিটেডের শেয়ার ধারাবাহিক লেনদেন ও কারসাজির মাধ্যমে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাত ব্যক্তি ও ছয় প্রতিষ্ঠানকে ৫ কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত