১৬৭৭ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন প্রখ্যাত ওলন্দাজ দার্শনিক বারুখ স্পিনোজা। তিনি ১৬৩২ সালের ২৪ নভেম্বর নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম শহরে এক ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পর্তুগাল থেকে নির্যাতিত হয়ে ইহুদিদের যে দলটি নেদারল্যান্ডস আশ্রয় গ্রহণ করেছিল তার পরিবার সে দলেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৬৩৮ সালে আমস্টারডামে ইহুদিদের জন্য একটি স্কুল খোলা হয়। স্পিনোজা এই স্কুলে তার পড়াশোনা শুরু করেন। এ সময়েই তিনি কাব্বালার মরমী মতবাদের সঙ্গে পরিচিত হন যা তার দার্শনিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছিল। অনেকের মতে তার দর্শনে নব্য-প্লেটোবাদী চিন্তাধারার মূলে ছিল কাব্বালার দর্শন। ১৬৬০-এর দশকের প্রথম দিকে স্পিনোজার নাম ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থ প্রকাশই ছিল এর কারণ। তার প্রথম প্রকাশনা ছিল Tractatus de intellectus emendatione । ১৬৬৩ সালে তিনি ‘কজিটা মেটাফিজিকা’ শিরোনামে রনে দেকার্তের প্রিন্সিপিয়া ফিলোসফিয়া গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডের একটি সার-সংক্ষেপ প্রকাশ করেন। জীবদ্দশায় প্রকাশিত তার অপর দুটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘ট্র্যাকটাটাস থিওলোজিকো-পলিটিকাস’ এবং ‘ট্র্যাকটাটাস পলিটিকাস’। ট্র্যাকটাটাস থিওলোজিকো-পলিটিকাস নামক বইটিতে বাইবেলের সমালোচনার পাশাপাশি তার রাষ্ট্রনৈতিক মতবাদের সুস্পষ্ট প্রকাশ ঘটেছে। দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে এই বইটি এতটাই উদারনৈতিক ছিল যে, নেদারল্যান্ডসের মতো একটি সহিষ্ণু দেশেও তাকে এটি ছদ্মনামে প্রকাশ করতে হয়েছিল। এত কিছু করেও তিনি পার পাননি। বইটি সেদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল। এরপর তার জীবদ্দশায় তিনি আর কোনো গ্রন্থ প্রকাশ করেননি। তবে বন্ধু, শুভাকাক্সক্ষী এবং সমালোচকদের সঙ্গে তিনি পত্র যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছিলেন।
×
