অনেক দিন ধরেই ভারতের পুলিশ অবৈধ উপায়ে দেশের বাইরে কিডনি বিক্রির একটি চক্রকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছিল। অবশেষে গত রবিবার উত্তর প্রদেশ পুলিশ কর্র্তৃপক্ষ দিল্লির কেতন কৌশিক নামে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে, যিনি কিডনি বিক্রি মাফিয়া চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করছিলেন।
স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে বসে কিডনি পাচারের পরিকল্পনা করার সময় মাফিয়া চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দুজনের সূত্র ধরে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ছয় বছর ধরে ভারতের মোট তিনটি রাজ্য থেকে ডা. কেতন কিডনি সংগ্রহ করে দেশের বাইরে পাচার করেন। কানপুর পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তা আনন্দ দেও জানান, ‘কিডনি ডোনারদের জন্য পর্যটক ভিসা ব্যবস্থা করে দিতেন ওই ডাক্তার। শ্রীলঙ্কা ও তুরস্কের ধনী মক্কেলদের কাছে পাঠানো হতো ডোনারদের, যেখানে অপারেশন করে কিডনি সংগ্রহ করা হতো।’
চক্রের গ্রেপ্তারকৃত সদস্য গৌরব মিশ্র পুলিশকে জানায়, ভারতের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে ডা. কেতনের এজেন্ট আছে। হাসপাতালের নেফ্রোলজি (কিডনিবিষয়ক) বিভাগের এজেন্টরা ডা. কেতনকে ওই সব ব্যক্তির তালিকা সরবরাহ করত, যাদের জরুরি ভিত্তিতে কিডনির দরকার। দেশের বাইরে কিডনি বিক্রি করে ক্রেতার কাছ থেকে কিডনিপ্রতি সোয়া ১ কোটি রুপি পর্যন্ত নিতেন কেতন। যদি কোনো ক্রেতা ভারতেই অস্ত্রোপচার করতে চাইতেন, সে ক্ষেত্রেও তার ব্যবস্থা করতেন তিনি। আর এজন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে হতো ক্রেতাকে। ২০১৬ সালে অ্যাপোলো কিডনি চক্রের সঙ্গে জড়িত টি রাজকুমার রাও কেতনের চক্রের সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে রাজকুমার জামিনে বাইরে আছেন এবং ভারতের হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের দায়িত্ব ছিল তার।