অ্যাজমা বা হাঁপানি আসলে শ্বাসনালির অসুখ। যেটাকে আমরা অ্যাজমা বলি তা শাসকষ্ট বা হাঁপানি নামেও পরিচিত। এখন ঘরে ঘরে এই রোগে আক্রান্ত মানুষ দেখতে পাওয়া যায় বা শোনা যায়।
শ্বাসকষ্টের কারণ
আমাদের শ্বাসনালিগুলো খুবই ক্ষুদ্র। ২ মিমি থেকে ৫ মিমি ব্যাস বিশিষ্ট। চারদিকে মাংশপেশি পরিবেষ্টিত। এ ক্ষুদ্র শ্বাসনালির ভেতর দিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় খুব সহজেই বাতাস আসা-যাওয়া করতে পারে। যদি কখনো অ্যালার্জিক বা উত্তেজক কোনো জিনিস শরীরে প্রবেশ করে তখন শ্বাসনালির মাংসপেশিগুলো সঙ্কুচিত হয়। ফলে শ্বাসনালি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় আঠালো মিউকাস জাতীয় কফ আর ইনফেকশনের কারণে শ্বাসনালির ভেতরের দিককার মিউকাস আবরণী ফুলে ওঠে। ফলে শ্বাস নিতে এবং ফেলতে কষ্ট হয়। আর মিউকাস জাতীয় আঠালো কফ উঠিয়ে ফেলার লক্ষ্যে অনবরত কাশি হতে থাকে। কখনো কখনো এই শ্বাসনালি এত সরু হয় যে, বাতাস বায়ুথলিতে পৌঁছায় না তখন শরীরে অক্সিজেনের অভাব হয়। এটা খুবই মারাত্মক অবস্থা। এ অবস্থা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলে অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যু ঘটতে পারে।
কী কী বিপদ হতে পারে
অ্যাজমা অনেক সময় জটিল ও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। যাদের অ্যাজমা স্থায়ী ও পুরনো তাদের হার্টফেল হতে পারে এবং রোগী শয্যাশায়ী হয়ে যেতে পারে। শরীরে সবসময় অক্সিজেন কম থাকতে পারে। তাই সবসময় অবসাদগ্রস্ত মনে হবে। অক্সিজেনের অভাবে স্মৃতিশক্তি কমতে থাকে এবং অকালে নিজেকে বৃদ্ধদের মতো দুর্বল মনে হবে। ফুসফুসের অংশ বিশেষ চুপসে যেতে পারে। নিউমোনিয়াও হতে পারে। পায়ে পানি আসতে পারে। মুখ থেকে ছিটেফোঁটা রক্ত বেরিয়ে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে কাশি বন্ধ করার ওষুধটা দেওয়া জরুরি। খুব বেশি আক্রান্ত হলে সুচিকিৎসার অভাবে মৃত্যুও হতে পারে।
বংশগতভাবে অ্যাজমার রিস্ক কতটা
মায়ের দিকে রক্তের সম্পর্কে কারও অ্যাজমা থাকলে তিনগুণ বেশি রিস্ক আর বাবার দিকে অ্যাজমা থাকলে রিস্ক অনেকটা কম। মায়ের হাঁপানি থাকলে বলা যায় তিন সন্তানের মধ্যে একজনের অ্যাজমা, একজনের আপাত সুস্বাস্থ্য এবং একজনের অস্বাভাবিক শ্বাসনালির সঙ্কোচন থাকতে পারে। একজনের অ্যাজমা না হয়ে সর্দি-কাশির প্রবণতাও থাকতে পারে। কিন্তু সবসময় এটা কার্যকর হবে এমন নয়।
সচেতনতা
সাধারণত অ্যাজমা শীতকালেই বেশি হয়। তবে সব ঋতুতেই হতে পারে। ধুলাবালি, ময়লা, পোকা, ফুলের বা ঘাসের পরাগ রেণু, পাখির পালক, জীব-জন্তুর পশম, ছত্রাক, কিছু খাবার, কিছু ওষুধ ও নানারকম রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদি থেকে অ্যালার্জি-জনিত অ্যাজমা হয়ে থাকে। তাই এসব জিনিস একটু এড়িয়ে চলা উচিত।
কাদের হতে পারে
যেকোনো বয়সের নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোর এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে খুব বাচ্চা শিশুদের এটা সাধারণত হয় না বা হলেও সামান্য সেটাও বোঝা যায় না। যাদের রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের হাঁপানি আছে তাদের এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। পিতৃকুলের চেয়ে মাতৃকুল থেকে অ্যাজমাতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস ,অ্যালার্জি ও অ্যাজমা বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠাতা ও বিভাগীয় প্রধান (অব.)
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।
চেম্বার : দি অ্যালার্জি অ্যান্ড অ্যাজমা সেন্টার
স্কাইটাচ রাজকোষ, ৪৩ আর/ ৫ সি, পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা
