পুরান ঢাকার চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অধিকাংশ বিশ্ব মিডিয়ার শীর্ষ খবরের জায়গা করে নেয়। গত বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় শাহী মসজিদের সামনে অগ্নিকাণ্ডে ৮০-এর অধিক মানুষ মারা যায়। বারবার আগুন লাগলেও তা ঠেকাতে বাংলাদেশের কর্র্তৃপক্ষের উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মিডিয়াগুলো। বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা, এএফপি, রয়টার্স, নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ বিশ্বের সব শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো কিছু সময় পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার আপডেট দিয়েছে। বিবিসি জানায়, রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক এলাকা চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭৮ জনের মৃত্যু ঘটেছে। নিহতদের অনেকেই ছিল একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আগত অতিথি। তবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি জানায়। সিএনএনে ‘ঢাকায় অ্যাপার্টমেন্টে আগুন : নিহত ৭০’ শিরোনামে দেওয়া দ্বিতীয় প্রধান খবরে বলা হয়, ‘ঢাকায় আগুন লেগে মৃত্যুর মর্মান্তিক ইতিহাস রয়েছে।’
আলজাজিরা ব্যানার হেডলাইন করেছে চকবাজারের আগুনকে। শিরোনাম দেওয়া হয়, ‘আমি বিগ ব্যাংয়ের মতো বিস্ফোরণ শুনেছিÑ বাংলাদেশে বড় আগুনে অনেক মানুষের মৃত্যু’। সঙ্গে ছিল আরও তিনটি সাইডস্টোরি। খবরে আলজাজিরা বলেছে, ‘বাংলাদেশে লাভজনক ইন্ডাস্ট্রির খরচ কমানোর অর্থ হলো নিরাপত্তায় গুরুত্ব না দেওয়া। ২০০৬ সালের পর থেকে দেশটিতে ৬০০ শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা গেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক টাইমসের শিরোনাম, বাংলাদেশে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ৭০ জন নিহত। এর প্রতিবেদনেও উঠে আসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুনের সূত্রপাতের বিষয়টি। তবে প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পূর্বের অগ্নিকাণ্ডে নিহতের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। ভবন নির্মাণে অব্যবস্থাপনা, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ বসবাস, তদারকি সংস্থার নজরদারিতে অবহেলা ও দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের কারণে দেশটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে থাকে। এ ছাড়া ২০১২ সালে তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জনের প্রাণহানির ঘটনাও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান শিরোনাম করে ‘ঢাকায় কেমিক্যাল গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭০।’ পুরান ঢাকার সরু গলিতে আটকে পড়ে প্রাণ হারায় এসব মানুষ।
ভারতীয় মিডিয়া এনডিটিভি শিরোনামে লিখেছে, ঢাকার ভবনে আগুন লেগে কমপক্ষে ৬৯ জনের মৃত্যু, টুইটে শোক প্রকাশ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির। টুইট বার্তায় মমতা বলেন, বাংলাদেশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবরে খুবই শোকাহত হলাম। নিহতদের পরিবারকে জানাই সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।
‘ম্যাসিভ ফায়ার কিলস ৭৮ ইন বাংলাদেশ ক্যাপিটাল’ শিরোনামে টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে আরও ৫০ জন আহত হয়েছে। প্রায় ৯ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
‘ডেথ টল বাংলাদেশ বিল্ডিং ফায়ার রাইজেস টু ৫৯’ শিরোনামে রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার শতবর্ষের পুরনো এলাকায় ভবনে আগুন লেগে অন্তত ৫৬ জন নিহত হয়। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। এ ছাড়া বার্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে এএফপি সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি ঘটনার অনেক ছবি প্রকাশ করে, যেখানে অগ্নিকাণ্ডে বীভৎসতার দিকটি জায়গা পায়। ‘ডেথ টল ফ্রম বাংলাদেশ ক্যাপিটাল ফায়ার রাইজেস’ শিরোনামে সিনহুয়া বলেছে, ৭৮ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
