শিল্পমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার

কেমিক্যাল ছিল না বলিনি, অবশ্যই ছিল

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:১৪ এএম

চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকান্ডে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে কেমিক্যাল ছিল না বলে যে দাবি করেছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, এক দিন বাদেই সে অবস্থান থেকে সরে এসেছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, আমি কেমিক্যাল ছিল না বলিনি। বলেছি অগ্নিকান্ডের শুরুটা হয়েছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে। দাহ্যপদার্থ বলতে যা কিছু  বোঝায় তার সব উপাদানই ঘটনাস্থল চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ছিল। রাসায়নিক পদার্থ ছিল না সেই অর্থে বলিনি আমি। তাহলে আপনি কি এখন দাবি করছেন, সেখানে রাসায়নিক পদার্থ ছিল এ প্রশ্নে শিল্পমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই রাসায়নিক পদার্থ, কেমিক্যালের গোডাউন ছিল। থাকতেই পারে। পুরান ঢাকার ওইসব এলাকায় প্রায় প্রতি ঘরেই কেমিক্যাল থাকে। কারণ এটা তাদের পূর্বপুরুষদের ব্যবসা। মন্ত্রী আরও বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন ও বক্তব্য নিয়ে ইতোমধ্যেই একটা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আমি বলতে চাই, ঘটনার ভয়াবহতা এতই মারাত্মক যে, এই নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলে না। বুঝতে হবে আমার দাবি ছিল অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত নিয়ে।

গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই আগুন লাগে; বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। এর ছয় ঘণ্টার মধ্যেই শিল্প মন্ত্রণালয় প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে জানায়, কেমিক্যালের কারণে নয়, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ প্রতিবেদন দেওয়ার আগে দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময়ও একই কথা বলেছিলেন শিল্পমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, প্রতিবেদনে মূলত অগ্নিকান্ডের শুরুটা নিয়ে বলা হয়েছে। তাছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিবেদন তাৎক্ষণিকভাবে করা। সেখানে আমি গিয়েছি, বিশেষজ্ঞরা গিয়েছেন, আমার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গিয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে, স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কথা বলে, পথচারীদের সঙ্গে কথা বলে যেসব তথ্য পেয়েছি তার ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদনে অগ্নিকান্ডের বিষয়টি বলা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেব ৫ দিনের মধ্যে। সেখানে বিস্তারিত উঠে আসবে।

সেখানে রাসায়নিক পদার্থ ছিল না কেন বলব পাল্টা এ প্রশ্ন করে নূরুল মজিদ মাহমুদ বলেন, এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই। আগুনটা ছড়িয়েছে স্প্রে বানানোর গ্যাস থেকে। শুরুটা হয়েছে সিলিন্ডার থেকে। ঘটনাস্থলে রেস্টুরেন্ট ছিল, ঘরবাড়ি ছিল। সেখানে সিলিন্ডারের ব্যবহার অহরহ। বুধবারের ঘটনা অনেক আতঙ্ক তৈরি করেছে। ওই এলাকা ঘিঞ্জি। তারপরও এই অগ্নিকান্ড নিয়ে কোনো কথা চলে না। এর ভয়াবহতা ও অমানবিকতা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকেও হার মানায়। মন্ত্রী বলেন, আমি সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। কারণ সেখানের ভয়াবহতা আমি নিজে উপস্থিত থেকে দেখেছি।

নিমতলীর পর চকবাজারে এমন ভয়াবহ ঘটনার পরও কি শেষ পর্যন্ত প্রতিবেদনেই আটকে থাকবে ঘটনাটি, না কার্যকর কোনো ব্যবস্থা এবার নেওয়া হবে এ প্রশ্নে তিনি বলেন, পুরান ঢাকার রাসায়নিক ব্যবসায়ীদের আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এখান থেকে তাদের সরতেই হবে। কাউকে ‘মার্সি’ করা হবে না। পুরান ঢাকা থেকে উচ্ছেদ হতেই হবে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের। আমার যা হয় হবে। নিমতলীর ঘটনার পর সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একনেকে একটি বরাদ্দও করা আছে। কিন্তু মুশকিল হলো এসব ঘটনার ভয়াবহতা ‘নরমাল’ হয়ে গেলে কেউ আর সেখান থেকে যেতে চায় না। ভাবখানা এমন ব্যবসায়ীরা মৃত্যুকে কিছু মনে করে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত