মা নাসরিন আক্তার ও বাবা মো. লিপুর সঙ্গে একই রিকশায় বাড়ি ফিরছিল আট বছরের ছেলে আফতাহী। চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে একই সঙ্গে মৃত্যু হয় তাদের। তবে লাশ এখনো শনাক্ত করতে পারেনি স্বজনরা। ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার থেকে লাশ খুঁজছে স্বজনরা। গতকাল সকালেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গের সামনে ভাই, ভাবি আর ভাতিজার খোঁজে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে লিপুর ভাই ইসমাইল হোসেনকে। দুপুরের দিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে ডিএনএর নমুনা দিয়ে আহাজারি করছিলেন নাসরিন আক্তারের ভাই আনোয়ার হোসেন রনি। এ সময় তিনি জানান, লিপু অফিস শেষ করে নাসরিন ও আফতাহীকে নিয়ে এক রিকশায় বাসায় ফিরছিল। তাদের বাসা থেকে তিন মিনিট দূরত্বে ওয়াহেদ ম্যানশনের বাসাটি। সেখানে যানজটে আটকে ছিল। এরপর আর খোঁজ মেলেনি তাদের।
রনি জানান, মোবাইল ট্র্যাকিংয়ে দেখা গেছে, পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানশনের সামনে ডান পাশের রাস্তায় ছিল সর্বশেষ তাদের অবস্থান। লিপুর ভাই ইসমাইল বলেন, ‘জানি না ভাই-ভাবি-ভাতিজা কোথায় আছেন। আগুনের পরে মোবাইলে কল দিয়েছি, বন্ধ দেখাচ্ছে। শেষবারের মতো দেহটাও পেলে নিজেদের সান্ত্বনা দিতে পারতাম। সবাই বলছে কেউ বেঁচে নেই। মর্গে গিয়ে সবগুলো মরদেহ দেখেছি, কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না।’
বোন নাসরিন আক্তারের কথা জিজ্ঞেস করলে আনোয়ার হোসেন রনি বলেন, মাত্র ২০ দিন হয়েছে অফিস কাছে হবে বলে তারা নতুন বাসা নিয়েছিল। ভাই একটি বেসরকারি আইসক্রিম কোম্পানির বিতরণ কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, সর্বশেষ সিআইডির নমুনা সংগ্রহ টিমের কাছে রক্ত ও লালার স্যাম্পল দিয়ে রেখেছেন।
