এই শ্রীলঙ্কা দলে এমন কোনো তারকা পাবেন না যাদের তুলনা হতে পারে কুমার সাঙ্গাকারা কিংবা মাহেলা জয়াবর্ধনের সঙ্গে। এই দলে অরবিন্দ ডি সিলভার মতো কোনো ব্যাটসম্যান নেই। অথচ এই দলটাই এমন একটা ইতিহাস গড়েছে যা শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অর্জন বললে অত্যুক্তি হয় না। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতেছে তারা। উপমহাদেশের আর কোনো দলের এমন কৃতিত্ব নেই। শচীন, দ্রাবিড়, লক্ষণ, সৌরভরা পারেননি। বিরাট কোহলিরা ব্যর্থ হয়েছেন। ওয়াকার-ওয়াসিমরা সফল্য পাননি। অথচ অবিশ্বাস্য লাগলেও সত্যি দিমুথা করুনারতেœর এই ভাঙাচোরা শ্রীলঙ্কা দুই টেস্টের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের মাটিতে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডোবাল।
মাত্র ৭ দিনের কম সময়ে সব কিছু কেমন বদলে গেছে। এই শ্রীলঙ্কা চূড়ান্ত এলোমেলো অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে পা রেখেছিল। অস্ট্রেলিয়ার মাটি থেকে হোয়াইটওয়াশের পরেই ছিল সফর। ব্যর্থতার কারণে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ক্ষমতা খর্ব করা হয়। কোনো ব্যাটসম্যান ফর্মে ছিলেন না। অথচ ডারবানে সবকিছু ভোজবাজির মতো বদলে গেল। আসলে কুশল পেরেরা সব কিছু বদলে দিয়েছিলেন। ১৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দক্ষিণ আফ্রিকার চেনা চিত্রনাট্য এলোমেলো করে দেন। এক উইকেটের অলৌকিক জয়ে এগিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। সেই প্রতিআক্রমণের জয় রাতারাতি বদলে দেয় দলটকে। পোর্ট এলিজাবেথে তারা নতুন ইতিহাস গড়ে সেই বদলের স্বাক্ষর রেখেছে।
শেষ টেস্ট জেতার জন্য শ্রীলঙ্কার সামনে টার্গেট ছিল ১৯৭ রানের। দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল তারা ২ উইকেটে ৬০ রান তুলে। তাই গতকাল তৃতীয় দিনের শুরুতে আক্ষরিক অর্থেই টেস্টটা ছিল ‘এনিবডি গেম।’ জেতার জন্য শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ১৩৭ রান। আর দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ছিল ৮ উইকেট। শ্রীলঙ্কা জয় তুলে নিয়েছে একটাও উইকেট না হারিয়ে। ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক কুশল মেন্ডিস ১১০ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন। অন্য প্রান্তে ওসাদা ফার্নান্দো অপরাজিত ছিলেন ১০৬ বলে ৭৫ রান করে। সব মিলিয়ে ২১৩ বলে ১৬৩ রানের এই যুগলবন্দিই তৃতীয় দিনের ইতিহাস নির্মাতা।
কোনো দক্ষিণ আফ্রিকান বোলার গতকাল সামান্য প্রভাবও বিস্তার করতে পারেননি লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের ওপর। ডেল স্টেইন উইকেট পাননি। কাগিসো রাবাদা ব্যর্থ হয়েছেন। ডুয়ান্নে অলিভিয়েরও অসফল। হারের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ফ্যাফ ডু প্লেসিস বলেছেন, ‘ খুবই হতাশাজনক। আমার নিজের চোখে এটা সবচেয়ে হতাশার সিরিজ হার। আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারিনি। পুরো সিরিজেই আমরা বাজে ব্যাটিং করেছি।’
উপমহাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজ জেতার পর শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দিমুথা করুনারতেœ বলেছেন, ‘অসাধারণ অনুভূতি হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে সিরিজ জেতাটা মোটেই সহজ কাজ নয়। অনেক কঠিন পরিশ্রমের পর আমরা ভালো করলাম। আমরা ইতিহাস গড়েছি। নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া সফরটা ছিল দারুণ কঠিন। আমর অনেক কিছু শিখেছি। দল হিসেবে ক্রিকেটাররা অনেক ভালো করেছে। কোনটা করা উচিত আর কোনটা উচিত নয় তা তারা বুঝতে পেরেছে। যে কারণে আজ আমরা এখানে।’ সত্যিকার অর্থেই কঠিন সফর পেরিয়ে সাফল্যের সোনালি বিন্দু ছুঁয়েছে শ্রীলঙ্কা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা : প্রথম ইনিংসে ২২২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৮
শ্রীলঙ্কা : প্রথম ইনিংসে ১৫৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৯৭/২ (৪৫.৪ ওভার) ( মেন্ডিস ৮৪*, ফার্নান্দো ৭৫*, করুনারতেœ ১৯, থিরিমান্নে ১০; অলিভিয়ের ১/৪৬, রাবাদা ১/৫৩)
ফল : শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : দুই টেস্টের সিরিজ ২-০ তে জিতেছে শ্রীলঙ্কা
ম্যাচসেরা : কুশল মেন্ডিস।
সিরিজসেরা : কুশল পেরেরা।
