৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরু তালতলীতে

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৪০ এএম

বরগুনার তালতলী উপজেলার পায়রা নদীর তীরে ৩৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলার ছোট নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে কেন্দ্র স্থাপনে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এখন চলছে ভূমি উন্নয়নের কাজ। সরেজমিন ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।  ‘বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড’ নামের এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। ১৭৪ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন এই কেন্দ্র থেকে সরকার ২৫ বছর বিদ্যুৎ নেবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বোচ্চ দর ধরা হয়েছে ছয় টাকা ৭৭ পয়সা। তবে কয়লার দরে হেরফেরের কারণে প্রতি ইউনিটের সর্বনি¤œ দর হবে ৪ টাকা ৮০ পয়সা। প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল (ফাতরার চর) থেকে ন্যূনতম ৬.৩৮ কিলোমিটার ও সুন্দরবন থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে গড়ে উঠছে কেন্দ্রটি। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে দুই কিলোমিটার এবং সুন্দরবন (ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ) থেকে ১০ কিলোমিটার দূরত্বের বাইরে হওয়ায় এরই মধ্যে বন বিভাগের অনাপত্তিপত্র পেয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আইসোটেক। এরই মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত সার্টিফিকেট পাওয়ায় জমি অধিগ্রহণ, জমি ক্রয়, বাঁধ নির্মাণ, মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। তবে স্থানীয়দের একটি পক্ষ পরিবেশ দূষণের অভিযোগ তুলেছে।  স্থানীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উন্নয়ন জরুরি। পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে কি না, সেটা দেখার দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের।’ আইসোটেক গ্রুপের নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ হোসেন বলেন, ‘কোনো বিষয়ে আপত্তি থাকলে প্রথমে আমাদের অভিযোগ কেন্দ্রে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে আমরা তাদের সেই সমস্যা সমাধান করতে পারি।’ আইসোটেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মঈনুল আলম বলেন, সরকারের সব নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। চুক্তি অনুযায়ী পাওয়ার প্ল্যান্টটির নির্মাণকাজ ৪৫ মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। প্রকল্প চালু হলে এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে উল্লেখ করে আইসোটেক গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার ফিরোজ চৌধুরী বলেন, কেন্দ্রটিতে সাড়ে তিন হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত