ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল। তবে বাকিদের অবস্থা মোটামুটি ভালো। দু-একদিনের মধ্যে তাদের ওয়ার্ডে দেওয়া হবে। গতকাল রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ দগ্ধদের চিকিৎসায় সব বিভাগের চিকিৎসকদের প্রতিনিধি নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে। এ বোর্ড সার্বক্ষণিক কাজ করছে।’
এর আগে গতকাল দগ্ধদের দেখতে বার্ন ইউনিটে যান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সেখানে তিনি রোগী ও তাদের স্বজনদের খোঁজখবর নেন।
গতকাল বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে গিয়ে দেখা গেছে, দগ্ধরা বিছানায় কাতরাচ্ছে। স্বজনরা জানান, দগ্ধদের শরীরের অবস্থা ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। কারও শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। নিয়মিত ড্রেসিংয়ের সময় অসহনীয় কষ্ট সইতে হচ্ছে।
সব থেকে বেশি দগ্ধ হয়েছেন সোহাগ। তার শরীরের ৬০ ভাগ পুড়ে গেছে। ভাই রুহুল আমিন বলেন, ‘ভাইয়ের শরীরের অবস্থা খুবই খারাপ। কারও সঙ্গে কথা বলছেন না। ড্রেসিংয়ের সময় তার খুব কষ্ট হচ্ছে। আল্লাহ জানে কী আছে ভাইর কপালে।’ দগ্ধ শেখ মাসুদের স্ত্রী পারভিন আক্তার জানান, ‘তার স্বামী ওষুধ কিনতে গিয়ে আগুনের কবলে পড়েন। পিঠ বেশি পোড়ায় ঠিকমতো তিনি ঘুমাতে পারেন না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বার্ন ইউনিটের দায়িত্বরত এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের মধ্যে যাদের শ্বাসনালি পুড়েছে, ডায়াবেটিস ও হাইপ্রেশার আছে তাদের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এদের মধ্যে সোহাগের পুড়েছে ৬০ ভাগ, রেজাউলের ৫১ ভাগ, মোজাফ্ফরের ৩০ ভাগ, জাকিরের ৩৫ ভাগ, আনোয়ারের ২৮ ভাগ ও সালাউদ্দিনের ১০ ভাগ। এদের মধ্যে মোজাফ্ফর ও আনোয়ারের শ্বাসনালি পুড়েছে। জাকিরের ডায়াবেটিস আর সালাউদ্দিনের হাইপ্রেশার, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডের সমস্যা। এতে তাদের চিকিৎসাসেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। এ ছাড়া দগ্ধ সেলিমের ১৪ ভাগ, হেলালের ১৬ ভাগ ও মাহমুদের ১৩ ভাগ পুড়েছে। এদের অবস্থা মোটামুটি ভালো।
